পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রথম ট্রাম্পকার্ড খেললেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সোমবার অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের কয়েক ঘণ্টা পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-কিউ (পিএমএলকিউ) দলের নেতা পারভেজ এলাহিকে মনোনয়ন দেয়ার দেয়ার মাধ্যমে বিরোধী শিবির থেকে দলটির সমর্থন সরিয়ে আনলেন তিনি।

এর আগে সোমবার অবশ্য পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলীয় মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করে বিরোধীরা।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে পিএমএলকিউর সমর্থন হারানোর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে দায়ী করা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলোর নেতারা বলছেন, নওয়াজের মেয়ে ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন (পিএমএলএন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ পিএমএলকিউর কাছে প্রস্তাব সঠিকভাবে উত্থাপন করতে পারেননি।

বিরোধী শিবিরের পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) এক জ্যেষ্ঠ নেতা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের কাছে জানান, পিএমএলকিউর দাবি না মেটানোর জন্য নওয়াজ ও তার মেয়েকে দায়ী করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পিএমএল-কিউর দাবি ছিলো বাকি সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন এবং পরের মেয়াদে ২০ আসনে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা আসিফ আলী জারদারি ও বিলওয়াল ভুট্টে-জারদারি এতে সম্মত জানালেও নওয়াজ শরিফ ও মরিয়ম নওয়াজ তাতে প্রস্তুত ছিলেন না।

পিএমএলকিউ নেতা চৌধুরি সুজাত হোসেনের কাছে মরিয়ম নওয়াজ প্রস্তাব করেন, ইমরান খানের পিটিআই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হলেই এলাহি নওয়াজকে মধ্যবর্তী তিন থেকে পাঁচ মাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।

পরবর্তী নির্বাচনে দলটিকে কত আসন দেয়া হবে তা নিয়েও কোনো আলোচনায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

গত ৮ মার্চ পাকিস্তানের সংবিধানের ৫৪ ধারার অধীনে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত এক প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি অনাস্থা ভোটের জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সেক্রেটারিয়েটে প্রস্তাব জমা দেয়।

সংবিধানের ৫৪ ধারা অনুসারে, ২৫ শতাংশ সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত কোনো প্রস্তাব যদি জমা দেয় হয় তবে স্পিকারকে ১৪ দিনের মধ্যে ওই বিষয়ে অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

এই ধারা অনুসারে ২২ মার্চ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশনের আহ্বানের শেষ দিন ছিলো। এর একদিন আগেই ২১ মার্চ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সেক্রেটারিয়েট থেকে শুক্রবার অধিবেশন আহ্বান করা হয়।

শুক্রবার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হলেও স্পিকার আসাদ কায়সার সোমবার সকাল ৪টা পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করেন।

সোমবার বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হলে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সদস্য ও পিএমএলএন নেতা শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

পরে সদস্যদের ভোটে এই প্রস্তাব আলোচনার জন্য অনুমোদন করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করেন স্পিকার।

এই প্রস্তাব পাসের জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৩৪২ সদস্যের মধ্যে ১৭২ সদস্যের ভোট প্রয়োজন। ইমরান খানের নিজের পিটিআই দলীয় সদস্য সংখ্যা ১৫৫।

সূত্র : ডন