ক্রীড়া প্রতিবেদক 
আগের ব্যর্থতা যাই থাকুক শেষটা যদি জয়ে হয় তাহলে অতীতটা ভুলে যেতে চান সবাই। ভুলেও যান। আর এই শেষটা যদি পদক জয়ের মাধ্যমে হয় তাহলে অতীত ব্যর্থতার বদলে প্রশংসাই জোটে। বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের আজ সেই প্রশংসা পাওয়ার দিন। সাথে এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের খাতায় আরেকটি পদক যোগ করার সুযোগ। এই ব্রোঞ্জপদক জয়ের ম্যাচই আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই লিটন দাসের দল যদি জিততে পারে তাহলে গত গেমসের ব্রোঞ্জপদকটা ধরে রাখা সম্ভব হবে। সাথে ক্রিকেট ডিসিপ্লিনে একেবারে খালি হাতে ফেরার বদলে একটি অর্জনের সান্ত¡নাতো মিলবে। জাপানের নিশিনে আজ সকাল ৬টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ না হলেও শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে আসর শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। অন্য দিকে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর ব্রোঞ্জ জিততে মরিয়া শ্রীলঙ্কা। আজ স্বর্ণ জয়ের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান।
পুরুষ ক্রিকেটে ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর তো খোয়া গেলেও এবার ছিল পুনরুদ্ধারের টার্গেট; কিন্তু সেমিতে পাকিস্তানের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ। তাই এখন ব্রোঞ্জ জিতে সান্ত¡না নেয়ার চেষ্টা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এবার ব্যর্থ হয়েছে ব্রোঞ্জপদক ধরে রাখতে।
এশিয়ান গেমসের ১৯তম আসরে ২০২৩ সালে পুরুষ ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। কোভিডের কারণে ২০২২ সালের আসর এক বছর পিছিয়ে হয়েছিল পরের বছর। ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বার ব্রোঞ্জ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। তবে আগের আসরে দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও ২০তম আসরে টাইগারদের পদক ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত পরশু প্রথম সেমিফাইনালে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে লিটন দাসের দল। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তৌহিদ হৃদয়। ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহ যথেষ্ট হয়নি। পাকিস্তান ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ফলে এখন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে হচ্ছে টাইগারদের। 
অন্য দিকে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালের লড়াইটা একেবারেই একপেশে ছিল শ্রীলঙ্কার। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে ভারত। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ১২৪ রানের বড় পরাজয়ে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে যায় দলটি। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। 
এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। পাকিস্তানের বিপক্ষে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা দলকে চাপে ফেলেছিল। তবে হৃদয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও বোলারদের শুরুর দিকের সাফল্য ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি তারা। এই ম্যাচে লিটন দাস, হৃদয় ও শেখ মাহেদী হাসানের মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্য দিকে শ্রীলঙ্কা দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান কয়েকজন ক্রিকেটার। অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগের নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিতে চাইবে। বিশেষ করে টাইগার ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে তাদের স্পিন আক্রমণ। ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেতে হলে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে বাংলাদেশকে।