ক্রীড়া ডেস্ক
ভোরেই আর্জেন্টিনার জার্র্সিতে বিদায় হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির। এক মহাতারকার বিদায়ে আর্জেন্টিনা জুড়ে যেমন বিশাল আয়োজন তেমনি পুরো বিশ^ তাকিয়ে আছে এই ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তীর আনুষ্ঠানিক বিদায় দেখার জন্য। আর্জেন্টিনার ফুটবলকে কি দেননি মেসি। ২০০৫ সালে যুব বিশ^কাপ জিতিয়েছেন। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনাকে ধরে রাখতে সাহায্য করেন অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণ। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ^কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এবং ১৯৯০ সালে সর্বশেষ ফাইনালে খেলার পর আর শিরোপা জেতা বা ফাইনালে খেলা কোনোটাই হচ্ছিল না ল্যাতিন আমেরিকান দেশটির। নেতৃত্ব নেয়ার পর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ^কাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন। এরপর ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে ২০২৬ সালে ফের ফাইনালে নিয়ে যান। ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা জেতার পর এই ট্রফি জিততে ভুলে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে ২০২১ সালে আবার তা পাইয়ে দেন মেসি। যা ২০২৪ সালে ফের ধরে রাখতে সহায়তা করেন। অথচ ২০০৫ সালে প্রথম জাতীয় দলের জার্র্সি পরার পর দীর্ঘ ২১ বছরে সমালোচনাও কম সইতে হয়নি। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরেরও সিদ্ধান্ত নেন। পরে অবশ্য ফিরে আসা।
ফাইনালে মেসি জ¦লে উঠতে পারেননি বা গোল করতে ব্যর্থ মানে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা আর্জেন্টিনার। মূলত এই কারণেই সমালোচনার তীরে বেশি বিদ্ধ হতে হয়েছিল রোজারিওতে জন্ম নেয়া ফুটবলারকে। বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই এর সাবেক এই তারতা ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ^কাপের ফাইনালে গোল মিস করেন । তাই শেষ পর্যন্ত জার্মানীর কাছে ০-১ গোলের হারের পর সব দোষ গিয়ে পড়ে মেসির ওপর।
২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় চিলির কাছে। ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে মেসি গোল করলেও পরে হিগুয়েইন ও এভার বানেগা গোল করতে ব্যর্থ হন। ফলে হার। ২০১৬ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারের প্রথম শট মিস করেন মেসি। এরপর দলের হার। এতে ফের তার ওপর চাপে সমস্ত দোষ। রাগে ক্ষোভে তাই জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। ২০২৬ সালের বিশ^কাপের ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে একাই টেনে আনেন মেসি। কিন্তু ফাইনালে কিছুই করতে পারেননি। সর্বশেষ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথম টাইব্রেকার শটে গোল করতে ব্যর্থ। অবশ্য অন্যরা গোল করলে সমালোচনা থেকে রক্ষা পান তিনি।
এবারের বিশ^কাপে শেষ ১৬ এর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে আর্জেন্টিনার হারের শঙ্কায় পড়ে। পরে অবশ্য মেসি গোলে সক্ষমতা আসে। জয়ের পর ওই পেনাল্টি মিসের পর কাঁদতে থাকেন। কারণ তা না হলে হারলে যে সব দোষ তার ওপরই যেত। গ্রুপ পর্বে অবশ্য অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করেন। সেই ম্যাচেও তিনি জোড়া গোল করেন পরে।



