বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ সময়ের গোলে জয় পেয়েছে ইউরো জায়ান্ট ফ্রান্স। তবে তাদের জয়টা সহজ হয়নি। পুরো ম্যাচ সমানতালে লড়াই করেছে অস্ট্রেলিয়া। উভয় পক্ষের একটি করে পেনাল্টির গোলে খেলা যখন সমতার দিকে গড়াচ্ছে তখনই ৮১ মিনিটে গোল করেন পল পগবা। অবশ্য গোললাইন প্রযুক্তি না থাকলে হয়তো বাতিলই হয়ে যেত গোলটি।

ক্রসবারে লেগে বল গোলের ভিতরের মাটিতে পড়ে আবার বাইরে চলে আসে। খালি চোখে বিষয়টি ধরা পড়ার মতো নয়। ফুটবলের নতুন সংযোজন গোললাইন প্রযুক্তি বাঁচিয়ে দিল ফ্রান্সকে।

প্রথমার্ধে উভয় দল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে দুই দল। ৫৬ মিনিটে ফরাসি স্ট্রাইকার গ্রিজম্যানকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জস রিসডন। পেনাল্টি নিশ্চিত করতে এখানেও ভিডিও প্রযুক্তির (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) সাহায্য নেন রেফারি। তাতেই ভাগ্য খুলে যায় ফ্রান্সের। গ্রিজম্যান শট নিয়ে গোল করতে ভুল করেননি (১-০)।

তবে ৬১ মিনিটে উমতিতির কাণ্ডে গোল শোধের সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের বক্সের মধ্যে বলের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ইচ্ছে করে। পেনাল্টি পায় অস্ট্রেলিয়া। মাইল জেডিনাকের জোড়ালো শট আটকানোর কোনো পথই খুঁজে পাননি ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিস (১-১)।

শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। ৮২ মিনিটে অলিভার জিরুর পাস থেকেই ডি বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান পগবা। সময়ক্ষেপণ না করে উঁচু করে আলতো শট নেন তিনি। বল ক্রসবারে লাগলেও সেটা পড়ার সময় গোললাইন পেরিয়ে যায়। গোললাইন প্রযুক্তিতে ফ্রান্সও এগিয়ে যায় (২-১)।

কতটা শক্তিশালী আর্জেন্টিনার আজকের প্রতিপক্ষ
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আর আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড। ইউরোপ মহাদেশের ছোট্ট দেশটি এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে বিশ্বকাপে। নতুন বলে দুর্বল ভাবার কোন কারণ নেই, কারণ ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে অনেকগুলো দেশকে পিছনে ফেলে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
২০১৬ ইউরোতেও প্রথম অংশ নিয়েছিলো তিন লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটি। তবে প্রথম আসরের চমক দেখিয়েছে তারা। ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে উঠে গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হার মানলেও জানান দিয়েছে নিজেদের শক্তির।

এবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আইসল্যান্ডের গ্রুপে ছিলো ক্রোয়েশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্ক। সবাইকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট জোগার করেছে দেশটি। ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা যে কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ছিলো না সেটি তারা প্রমাণ করেছে নিজেদের খেলা দিয়েই।
তাই দলটিকে ছোট করে দেখলে বিপদে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। এমনিতেই ইউরোপ মহাদেশ বিশ্বের যে কোন অঞ্চলের চেয়ে ফুটবলে অগ্রসর। এখানার প্রতিটি দল দারুণ গতি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। তাই যে কোন কিছু ঘটিয়ে ফেরার সামর্থ রয়েছে তাদের।

বাছাই পর্বে আইসল্যান্ডকে বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ইনজুরির কারণে তাদের মূল স্ট্রাইকার কোলবেনন সাইটরসনকে না পাওয়ার ফলে। তারপর ইউরো ২০১৬-তে খেলা দেশটি আরো অসুবিধার সম্মুখীন হয় যখন তাদের কোচ লার্স ল্যাগারব্যাক চলে যায়। যার অধীনে তারা ইউরো খেলেছিল। বাছাই পর্বে তিনটি ড্র তাদেরকে বিপদের মুখোমুখি করেছিল। সব শঙ্কা দূর করে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থানে থেকেই রাশিয়া বিশ^কাপে এসেছে আইসল্যান্ড। বিশ^কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে অভিষেকের অপেক্ষায় আইসল্যান্ড।

কোচিং স্টাফদের মধ্যে হেমির হেলগ্রিমসন, যিনি সহকারী কোচ ছিলেন, এখন তাদের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ল্যাগারব্যাক থেকে আরো কৌশলগতভাবে নমনীয়। আইসল্যান্ড এখনো ৪-৪-২ পদ্ধতিতে খেলে, কিন্তু হেলগ্রিমসন মাঝে মাঝে তাদেরকে ৪-৫-১ পদ্ধতিতেও ভালোভাবেই খেলিয়েছেন কিছু ম্যাচে। সাইটরসন ছাড়া ইউরোতে যারা দলে ছিলেন, তাদের সবাইকে এবারো দেখা যাবে রাশিয়ায়। ইউরোর সেই সাফল্যকে তারা ছাড়িয়ে যাবেন, এটি বললে মনে হয় একটু বেশিই আশাবাদী হওয়া হবে। তবে তাদের ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসা এবং চিৎকার ও ‘থান্ডারক্লেপ’ থাকায় কোনো কিছুকেই বাদ দেয়া যায় না।

গোলরক্ষক : হ্যানস পর হেলডরসন, ওগমান্ডর ক্রিস্টিয়ানসন, ইনগবার জনসন, রুনার এলেক্স রানারসন, ফ্রেডরিক স্ক্রাম;
রক্ষণভাগ: বিকির মার সেভারসন, রেগনার সিগারসন, কারি আরনাসন, এরি ফেয়র স্কুলাসন, সেবেরির ইনগি ইনগাসন, হুরুর জর্গবিন ম্যাগনাসন, জন গুনি জুলুসন, হোলমার ওরন আইজলফসন, জরটার হারমেনসন;
মাঝমাঠ: অ্যারন গুনারসন (অধিনায়ক), বিরকির জারনাসন, জোহান বার্গ ইয়ুমুন্ডসন, এমিল হল ফ্রেসন, রুরিক গিসলাসন, থিওডর এলমার জারনাসন, ওলাফার ইনগি স্কালসন, আরনর ইনগবি রাসটাসন, স্যামুয়েল ফ্রিজনসন;
আক্রমণভাগ: কোলবেন সিগপরসন, জন ডাই বুভারসন, ভেøয়ার ওরন জারটানসন, জারটান ফিনবোগাসন, জরন বার্গম্যন সিগুডারসন।