মস্কো শহরের যে কোনো স্থান দূরেই হোক না কেন মেট্রো রেলের কারনে সেখানে যেতে কোনো সমস্যাই নয়। যেমন কোনো ঝামেলা হলো না তিন বার মেট্রো বদল করে লোটে হোটেলে যেতে। ফিফার কর্মকর্তাদের বিশ্বকাপকালীন আশ্রয়স্থল এটি। কিন্তু এই হোটেলে যে এতো সাবেক ফুটবলার থাকছেন তা আগে জানা ছিল না। গিয়ে তো বিস্মিত। সময়টা ছিল গত পরশু বিকেল বেলা। এই তারকাদের কেউ কেউ তখন বাইরে বেরুবেন ঘুরতে। কেউবা ফিরছেন হোটেলে। কাকতালীয়ভাবে মোক্ষাম সময়ে গিয়ে হাজির। ফলে একে একে সাক্ষাৎ ফ্রান্সের ৯৮ এর বিশ্বকাপ তারকা লরেন্ট ব্লাক, ডেভিড ত্রেজেগে ,আর্জেন্টিনার হয়ে তিন বিশ্বকাপ খেলা স্ট্রাইকার হারনান ক্রেসপো, ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোস, পর্তূগালের লুইস ফিগো, ক্যামেরুনের স্যামুয়েল ইতোদের সাথে। অল্পের জন্য সাক্ষাৎ মিললো না ক্রোয়েশিয়ার ১৯৯৮ বিশ্বকাপ মাতানো ডেভর সুকারের সাথে। ফিগোর পেছনে ছুটতেই দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গেলেন ৯৮এর গোল্ডেন বুট জয়ী এই ক্রোয়েট।
হোটেল লবিতে ঢুকতেই দেখা লরেন্ট ব্লাঙ্কের সাথে। ৯৮ এর বিশ্বকাপে ফরাসীরা নিজ মাঠে প্যারাগুয়ের কঠিনতম প্রতিরোধ পেরিয়েছিল এই ডিফেন্ডার ব্লাঙ্কয়ের গোলে। দ্বিতীয় রাউন্ডে তার গোল্ডেন গোলেই ১-০তে জয় পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের। ব্লাকই বিশ্বকাপের প্রথম গোল্ডেন গোলদাতা। সেই গোলের প্রসঙ্গ আনতেই স্মৃতি পাতায় হারিয়ে গেলেন তিনি। ব্লাঙ্কের জবাব,‘ওহ ওটা একটা অসাধারন গোল। আমার গোলেইতো জিতেছিল ফ্রান্স।’ পরে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া এই সাবেক ফুটবলারের মতে, ফ্রান্স এবার ফাইনালে উঠায় আমি বেশ খুশী।তাদের সাফল্য কামনা করি।’ এরপরেই চলে গেলেন তিনি। আরেক বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসী ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান কারেম্বুকে বিদায় দিয়ে ছুটলেন হোটেল রুমের দিকে।
এরপর হোটেল লবিতে পাওয়া গেল হারনান ক্রেপোকে। তিনি বাইরে যাবেন। আার্জেন্টিনা ব্রাজিল এবার ফাইনালে নেই বিশেষ করে আর্জেন্টিনা এই বিষয়ে তার উত্তর,‘ অন্য সবার মতো আমিও খুব হতাশ। কোনো ল্যাতিন দেশ নেই রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে।’ বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রচুর সমর্থক আছে এই তথ্য দেয়ার পর তার হাসি মাখা জবাব,‘ হ্যাঁ আমি জানি।’ এরপরেই তিনি বের হয়ে গেলেন হোটেল থেকে।
ঠিক তখনই হোটেলে ঢুকলেন ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোস। ৯৮ এর বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সে আনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্ট টরেইনো ডি ফ্রান্সে স্বাগিতিকদের বিপক্ষে ফ্রি-কিকের গোল বিখ্যাত করে দিয়েছে তাকে। সেই গোল প্রসঙ্গে বললেন, ‘হ্যাঁ দূর্দান্ত ফ্রি-কিকের গোল ছিল তা।’ ব্রাজিলের হয়ে তিন বিশ্বকাপ খেলা এবং ২০০২ এর বিশ্বকাপ জয়ী সদস্য আর বেশী সময় দিলেন না।
দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন লুইস ফিগো। তার কাছ থেকে শুধু ছবি তোলার অনুমতিই মিললো। গেঞ্জী আর ট্রাউজার পরে তিনি মাত্রই নামলেন লবিতে। ফ্রান্সের ত্রেজেগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শুভ কামনা জানলেন বর্তমান ফরাসী দলের প্রতি।
সন্ধ্যা হয় হয় ঠিক এই সময়ে হোটেলে ঢুকলেন ক্যামরুনের স্যামুয়েল ইতো। থাকেবন এই হোটেলে। কোনো কথা বলবেন না তা আগেই জানিয়ে দেন। শুধু ছবি তোলার অনুমতি।
এই তারকা ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আন্তরিক হিসেবে পাওয়া গেল ক্রেসপো এবং রবার্তো কার্লোসকেই। কর্লোস তো আমার হাত থেকে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে আরেকজনকে অনুরোধ করলেন ছবি তুলে দিতে। উল্লেখ্য ভারতের আইএসএল দল দিল্লী ডায়নামোর কোচ কাম খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। হয়তো এই কারনেই ভারতীয় উপমহাদেশের লোকদের প্রতি তার বাড়তি দরদ।



