নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী দেখাল যুব টাইগারারা। নিখুঁত লাইন লেন্থ আর প্রয়োজনের সময় ব্রেক থ্রুÑ সব মিলে গতকালের ফাইনালে বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে দশে ১০ দিতে কার্পণ্য করবেন না কোনো কড়া হেডমাস্টারও। যা ভারতকে ১৭৭ রানে অলআউট করে দিতে ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে গতকাল বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াইয়ে শুরু থেকেই ভারতকে চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। শিরোপা জয়ের জন্য যে মানসিকতা আর শরীরী ভাষা থাকা দরকার তা শুরু থেকেই ছিল যুব টাইগারদের মধ্যে।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়েও ছিল দক্ষতার ছাপ আকবার আলীর দলের। আর এই হার না মানা মানসিকতার কারণেই ভারতের সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপকে অল্প রানে আটকে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফাইনালের মতো ম্যাচে এমন বোলিং করার পর বোলারদের আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। সেরাটা দেয়ার বিষয়ে বোলাররা তাদের অঙ্গীকার পূরণ করেছেন। পুরো ইনিংসজুড়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের রান তোলার জন্য যে সংগ্রাম করতে হয়েছে, তাতে টাইগার যুবাদের বোলিং ডিপার্টমেন্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সবাই। ফাইনালে বাকি কাজটুকু ছিল ব্যাটসম্যানদের। তাদের কাজ ছিল এই রান টপকে দেশকে প্রথম কোনো বিশ্ব আসরের শিরোপা উপহার দেয়া।
টস জিতে বোলিং করতে নেমে শুরু থেকেই নিখুঁত লাইন লেন্থ আর গতির মহড়া ছিল দুই উদ্বোধনী বোলার শরিফুল হাসান ও তানজিম হাসান সাকিবের। ভারতের দুই ওপেনারকে কোনো সুযোগ দেননি তারা। ইনিংসের প্রথম রানটি পেতে ভারতের দুই ওপেনারকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ বল পর্যন্ত। পরপর দু’টি ওভার মেডেন নেয়ার পর তৃতীয় ওভারে রানের খাতা খোলে ভারত। টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ খেলে আসা ভারতীয় ওপেনার জাশসভি জইশওয়ালকে দেখা গেছে রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে। পাওয়ার প্লে ৬ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৮।
এরপর বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন অধিনায়ক আকবর আলী। টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ডান হাতি পেসার অভিষেক দাসের হাতে বল তুলে দেন। এই সময় এই চাপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা শুরু করে ভারতীয় ওপেনাররা। যার ফসল হিসেবে প্রথম উইকেটে দেখা পায় বাংলাদেশ। অভিষেকে অফ স্ট্যাম্পের একটি বল ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে মাহমুদুলের তালুবন্দী হন দিব্যনাশ সাক্সেনা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ভারতকে বড় জুটি উপহার দেন জইশওয়াল ও তিলক ভার্মা। ধীর গতিতে রান তুললেও এই জুটি চ্যালেঞ্জিং স্কোরের আভাস দিচ্ছিল।
কিন্তু নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসে এই জুটিতে ভাঙন ধরান পেসার সাকিব। ৩৮ রান করা তিলক ভার্মা ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন শরিফুলের হাতে। ভারতের রান তখন ১০৩। একটু পরই দলীয় ১১৪ রানে রাকিবুল ভারতীয় অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গকে ফেরান। এরপর উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুড়েলকে নিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার জইশওয়াল। দাতে দাত চেপে একপ্রান্তে তিনি তখনও রান তুলে যাচ্ছেন। দলীয় ১৫৬ রানে পেসার শরিফুল তাকে ফেরানোর পর ভেঙে যায় ভারতের সব প্রতিরোধ। ১২১ বলে ৮৮ রান করে আউট হন সেমিফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান। এরপর আর দাঁড়াতে পারেনি কোনো ব্যাটসম্যান। শুরু হয়েছে আসা যাওয়ার মিছিল। পরবর্তী ২১ রান তুলতে শেষে ছয়টি উইকেট হারায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। শেষের ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ২ ওভারে ভারত অলআউট হয়েছে ১৭৭ রানে।
৯ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন অভিষেক। সাকিব ২৮ রানে ও শরিফুল ৩১ রানে দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া ম্যাচে দু’টি ক্যাচ নেয়ার পাশাপাশি একটি রান আউটও করেছেন শরিফুল। শরিফুল। এক উইকেট নিয়েছেন স্পিনার রাকিবুল হাসান।
যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রদর্শনী
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী দেখাল যুব টাইগারারা। নিখুঁত লাইন লেন্থ আর প্রয়োজনের সময় ব্রেক থ্রুÑ সব মিলে গতকালের ফাইনালে বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে দশে ১০...



