‘ভারতীয় ওপেনার জশসভি জইশওয়াল (৪০০ রান) ও বোলার রবি বিষ্ণয় (১৭ উইকেট) টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন সবচেয়ে সফল বোলার ও ব্যাটসম্যান হিসেবে; কিন্তু শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। কারণ ফাইনালের দিন টিম ওয়ার্কেই বাংলাদেশ তাদের স্বপ্ন পূরণ করেছে’। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর এক বিশ্লেষণের শুরুটা করা হয়েছে এভাবেই শুধু ফাইনাল ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিল বাংলাদেশের টিম ওয়ার্কের দারুণ প্রদর্শনী। টুর্নামেন্টে আগের সবগুলো ম্যাচ মিলে যার রান মাত্র ২৬ সেই আকবর আলীই ফাইনালে দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন শিরোপা। আবার বোলার রকিবুল হাসানের শীর্ষ পর্যায়ের যুব ক্রিকেটে আগে সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিত ১; কিন্তু এ দিন তিনিও কী দারুণভাবেই না আস্থার প্রতিদান দিলেন। এ দুটো উদারহণ মাত্র। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিল যুব টাইগারদের দলীয় নৈপুণ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।
আজ একজন ব্যাট হাতে দলকে জেতালেন, তো অন্য দিন আরেকজন বল হাতে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিলেন। এভাবেই এগিয়েছে টাইগারদের স্বপ্নযাত্রা। টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে ও কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করা স্পিনার রকিবুল হাসান অনেকটাই অনুজ্জ্বল ছিলেন সেমিফাইনাল ও ফাইনালে; কিন্তু তার জায়গায় ঠিকই বল হাতে দায়িত্ব নিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে তাদের ২১১ রানে আটকে রাখেন। ফাইনালে ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান জইশওয়ালসহ দুই উইকেট, দু’টি মূল্যবান ক্যাচ নেয়ার পাশাপাশি করেছেন একটি দুর্দান্ত রানআউট। অথচ টুর্নামেন্টে আগের চার ম্যাচে শরিফুল তেমন একটা দাপট দেখাতে পারেননি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর পারভেজ হোসেন ইমন যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। পরপর চার ম্যাচে ভালো করতে না পারা এই ওপেনার ফাইনালে ঠিকই ছন্দে ফিরেছেন। দারুণ উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর পায়ের ইনজুরির কারণে মাঠ ছেড়ে গিয়ে, আবার মাঠে নেমেছেন দলের প্রয়োজনে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেলেছেন ৪৭ রানের দারুণ কার্যকরী এক ইনিংস। আবার ইমন যখন রান পাচ্ছিলেন না তখন দলকে ফাইনালে তুলতে সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ৮০ রানের ইনিংস খেলা তানজিদ হাসান সেমিফাইনাল ও ফাইনালে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি; কিন্তু সেদিন তার কাজটাই করেছিলেন মাহমুদুল ও ইমন। গ্রুপ পর্বে ভালো করতে না পারলেও কোয়ার্টার ফাইনাল (৫১) ও সেমিতে (৪০) দু’টি মূল্যবান ইনিংস খেলে দলের সাফল্যে অংশীদার হয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। গ্রুপ পর্বে ব্যাটিং না পাওয়া শাহাদাত হোসেন তার রান ক্ষুধা মিটিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল (৭৪*) ও সেমিফাইনালে (৪০)।
আবার ফাইনালে যখন তানজিদ হাসান, তৌহিদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান, শাহাদাতরা সেরাটা দিতে পারেননিÑ ঠিকই দায়িত্ব নিয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে গেছেন টাইগার দলপতি আকরব আলী। আর সেনাপাতির পাশে আস্থাবান সৈনিক হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন মূলত বোলার রাকিবুল। যেন সেনাপতি যতক্ষণ লড়বেন ততক্ষণ তিনিও যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে না যাওয়ার পণ করেছিলেন।
আর পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই টিম ওয়ার্কের কারণেই বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত শিরোপা ঘরে তুলেছে। ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়, সবাই লড়েছেন দলের জন্য, দেশের জন্য। টুর্নামেন্টের সেরাদের কাতারে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় মাহমুদুল হাসান জয় আছেন ১৫ নম্বরে। ১৮ ও ১৯ নম্বরে আছেন তানজিদ ও শাহাদাত। বোলারদের তালিকায় রাকিবুল আছেন ১১ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে ৬ নম্বরে; কিন্তু সেরা দলের খেতাবটা জিতেছে তাদেরই দল-বাংলাদেশ। আর সেটা সবার সমন্বিত লড়াইয়েরই ফল।



