গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিস্তুতা। যাকে বাতি গোল বলা হতো গোল করার দক্ষতার জন্য। এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিন বিশ্বকাপ খেলে ১২ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। অবশ্য ম্যারাডোনা বা লিওনেল মেসির মতো তিনি প্লেমেকার ছিলেন না ১০ নাম্বার জার্সি পরে। ৯ নাম্বার জার্সি পরে শুধু গোল করার স্ট্রাইকিং কাজই করে গেছেন। তবে ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ বিশ্বকাপে খেলা বাতিস্তুতা মনে করেন, কাতার বিশ্বকাপে মেসি তাকে টপকে যাবে গোল সংখ্যায়। বর্তমানে মেসির বিশ্বকাপের গোল ছয়টি।
বয়স হয়ে গেছে বাতিস্তুতার। এখন তিনি নানাও হয়ে গেছেন। তবে চার ছেলেসন্তান নিয়ে কাতারে এসেছেন প্রিয় দেশের খেলা দেখতে। যদিও মাঠে অ্যাংকেলের ইনজুরিতে ভুগেছেন। জানান, ‘আমি মোটেই কষ্ট পাবো না যদি মেসি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে আমার করা গোলের রেকর্ড ভঙ্গ করে। আমি মেসির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছি আমার রেকর্ড অতিক্রম করার। আমি আশাও করছি তা।’
যোগ করেন, ‘শুধু এই রেকর্ডই নয়, আমি আরবের মাটিতে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখছি। আর কোপা আমেরিকা জয়টা আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপটা জয়ের বিষয়টা নির্ভার করে দিয়েছে।’ তার মতে, ‘মেসি আনেক দিন ধরেই দেশের হয়ে ট্রফি জয়ের অপেক্ষায় ছিল। এই অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের মাটিতে তা ধরা দিয়েছে। এটাই এখন সহজ করে দিয়েছে বিশ্বকাপ জেতাটা।’ জানান, যদি মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে তাহলে তা হবে তার জন্যই বিশাল সম্মানের।
১৯৯৪ সালে গ্রিস এবং ১৯৯৮ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার বাতিস্তুতা। এখন আর্জেন্টিনা দলের মূল স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। সাথে আছে মাত্রই ইউরোপিয়ান ফুটবলে অভিষেক ঘটানো জুলিয়ান আলভারেজ। এই দুই সম্পর্কে বাতিগোলের মন্তব্য, লাউতারো চার বছর ধরে ইতালিয়ান লিগে খেলছে। তবে সে এবং আলভারেজ কেউ আমাদের মতো বড় তারকা নয়। তারা খেলছে ভিন্ন স্টাইলে। আমি তাদের খারাপ বলব না।
বিশ্বকাপে নিজের দুঃখবোধের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ‘আমি তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছি। ২০০২ সালে প্রথম রাউন্ডে, ১৯৯৪-এ দ্বিতীয় রাউন্ডে এবং ১৯৯৮-এ কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিই। যদি প্রতি আসরেই অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারতাম তাহলে আমার গোল হতো ২০টির মতো।’ ভারী কণ্ঠের উত্তর, ‘বিশ্বকাপ জিততে না পারাটাও কষ্টের। ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে আর্জেন্টিনা ফেবারিট ছিল। ১৯৯৮ সালে বলতে গেলে আমরা অল্প দূরে ছিলাম। আসলে ভাগ্যও লাগে সব কিছুতে।
আরো বলেন, মেসির সাথে আমি খেলতে পারলে ভালো লাগত। ক্লাব ফুটবলে আমি খেলেছি ইতালির ফ্রান্সিসকো টোট্টির সাথে। জাতীয় দলে ম্যারাডোনার সাথে। এবার ম্যারাডোনা ছাড়াই বিশ্বকাপ। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে ভীষণ।
মেসি আমাকে টপকে যাবে : বাতিস্তুতা
গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিস্তুতা। যাকে বাতি গোল বলা হতো গোল করার দক্ষতার জন্য। এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিন বিশ্বকাপ খেলে ১২ ম্যাচে করেছেন ১০...



