কে বলবে এই দলটি হেরেছিল সৌদি আরবের মতো দলের কাছে। বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন ছিল এবার এশিয়ান এই দেশটির কাছে আর্জেন্টিনার হার; যা তাদের ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কৃতিত্ব ম্লান করে দেয়। এরপর ২০০২ সালের মতো ফের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়ার প্রবল শঙ্কা। কারণ ‘সি’ গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ সৌদিদের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিশালী। কিন্তু মেসি বাহিনী ঠিকই টপকালো পাহাড়সম এই দুই বাধা। মাস্ট উইন দুই ম্যাচে একই স্কোর লাইনে জয়। প্রথমে উত্তর আমেরিকান দেশ মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারানোর পর পরশু রাতে ২-০ গোলে জয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের বিপক্ষে। যে দলটির বাদ পড়ার পক্ষেই অনেকের বাজি ধরা সেই দলই এখন গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আর্জেন্টিনা আসলে প্রমাণ করেছে প্রথম ম্যাচে তাদের হারটা ছিল স্্েরফই একটি দুর্ঘটনা। পরের দুই ম্যাচে তারা ফিরেছে চিরচেনা শক্তি হিসেবেই। অবশ্য সৌদি আরবকে খাটো করার সুযোগ নেই। পরশু রাতে তারা কাক্সিক্ষত জয়ের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করেও ১-২ গোলে হেরেছে মেক্সিকোর কাছে। পুরো আসরেই তারা দারুণ খেলেছে।
লিওনেল মেসি বাহিনী একতরফা ম্যাচ খেলেই মেক্সিকো ও পোল্যান্ড বাধা অতিক্রম করে। ঠিক যে পারফরম্যান্স তারা বিগত সময় ধরে প্রদর্শন করে এসেছিল। ফর্মে নেই দলের এক নম্বর স্ট্্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। এর পরও আর্জেন্টিনা টানা দুই ম্যাচ জিতেছে। কারণ লিওনেল মেসিকে অন্যরা যথাযথ সহায়তা করছেন; যে কারণে পরশু রাতে মিসে পেনাল্টি মিস করার পরও দলকে জয় বঞ্চিত হতে হয়েনি। যেমনটি হয়েছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে।
পরশু রাতে দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা স্টেডিয়াম ৯৭৪ এ এতটাই আগ্রাসী ছিল যে পোল্যান্ড ঘর সামলাতেই ব্যস্ত। তারা কোনোভাবেই তৃতীয় গোল হজম করতে চাইছিল না। বিরতির পর ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে আর্জেন্টিনা লিড নেয়ার পর ৬৭ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ ব্যবধান বাড়ান। এরপর পোল্যান্ড পুরোপুরি খোলসে। আর আর্জেন্টিনা খেলতে থাকে বিপক্ষ অর্ধেই। অবশ্য তারা তৃতীয় গোলটি আদায় করতে পারেনি। তা হলে অবশ্য কপাল পুড়ত পোল্যান্ডের। তাদের টপকে নক আউটে চলে যেত মেক্সিকো। মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের পয়েন্ট সমান ৪ হলেও তারা বেশি ১ গোল বেশি হজম করায় গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উল্লাস আর থামছিল না গ্যালারিজুড়ে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বারবার অনুরোধ করার পরও চলছিল স্প্যানিশ ভাষায় গান গেয়ে গেয়ে উল্লাস করাটা। আসলে তারা এখন প্রবলভাবে আত্মবিশ্বাসী বিশ্বকাপে খেলা দলটির ওপর। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। তাদের প্রত্যাশা সকারুজদের হারাবে আলবিসেলেস্তেরা।
পরশু আর্জেন্টিনা নিজেদের ইচ্ছেমতোই খেলেছে। স্রেফ নাচিয়ে ছেড়েছে পোলিশদের। তাদের তারকা স্ট্রাইকার গোল মেশিন খ্যাত রাবর্ত লেভানদভিস্ক কোনো চান্সই পায়নি। এখন লিওনেল স্ক্যালোনির দল যদি আর ভুল না করে তা হলে তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।