৭২ মিনিটে লুসাইল স্টেডিয়ামে গ্যালারি-ভর্তি দর্শকদের তুমুল হাততালি। না তখন কোনো গোল হয়নি। তাহলে এই হাততালি কেন। আসলে তখন মাঠে নামছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শতভাগ ফিট না থাকায় কোচ ফার্নান্ডো সান্তোস তাকে একাদশে রাখেননি। কোচ যে তাকে বাধ্য হয়েই নামিয়েছেন তা নয়। ম্যাচের সব আকর্ষণ ততক্ষণে শেষ। স্রেফই কিছুক্ষণ এই পর্তুগিজ অধিনায়ককে ভক্তরা যেন মাঠে দেখতে পারে সে উদ্যোগই। তবে পর্তুগাল টিম যে সি আর সেভেন নির্ভর নয় পরশু রাতে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো তারা। কাতার বিশ্বকাপের শেষ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সুইজারল্যান্ড। যারা সার্বিয়াকে হারিয়ে নক আউটে আসে। তাদের ৬-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল। নিজ দেশের ক্লাব বেনফিকার স্ট্রাইকার রামোস গনসালোর হ্যাটট্রিকে রোনালদো বাহিনীর এই সহজ জয়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। সেমিতে যেতে তাদের এখন ১০ ডিসেম্বর লড়তে হবে মরক্কোর বিপক্ষে।
১৬ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল পর্তুগিজরা। এর আগে তারা ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিতে বিদায় নিয়েছিল ফ্রান্সের কাছে হেরে। আর ফের দ্বিতীয় রাউন্ডে বিশ্বকাপের সমাপ্তি টানতে হলো মুরাত ইয়াকিনের দলকে।
সুইসদের কাছে যতটা লড়াই বা প্রতিরোধ আশা করা হয়েছিল তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। গোলরক্ষক ইয়ান সোমারের ভুলে ১৭ মিনিটে সেই যে শুরু পর্তুগিজদের গোল উৎসব তা চলতে থাকে ৯২ মিনিট (ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিট) পর্যন্ত। মাঝে স্ইুজারল্যান্ড ৫৮ মিনিটে ব্যবধান কমালেও তা কোনো কাজেই আসেনি স্রেফই সান্ত্বনা ছাড়া। পর্তুগালের গোলের শুরু রামোস গনসালোর মাধ্যমে। থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের তীব্র শটে প্রথম পোস্টে দাঁড়ানো সোমারকে বোকা বানান তিনি। এরপর ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ৬৭ মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে প্রথম গোল পাওয়ার মুহূর্তেকে শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিকে পরিণত করেন তিনি। জাতীয় দলে এ নিয়ে চার গোল তার।
প্রথমার্ধেই পর্তুগাল ২-০তে এগিয়ে যায় ব্রাজিলে জন্ম নেয়া পেপের গোলে। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে তার লাফিয়ে নেয়া হেডের আশ্রয় জালে। সুইজারল্যান্ড অবশ্য ৩০ মিনিটে সমতা আনার সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু কসোভোর বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার জেরদান শাকিরি ফ্রি-কিক পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা বাম দিকে পুরো শরীর ফেলে কোনো মতে তা কর্নার করে দলকে রক্ষা করেন।
বিরতির পর ৫১ মিনিটে স্কোর ৩-০ করে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে ফেলে গনসালোরা। দিয়াগো দোলাতের ক্রস থেকে ডান পায়ের আলতো টোকায় বল গোললাইন অতিক্রম করান গনসালো। কিছুই করতে পারেননি সোমার। বল তার পায়ের ফাঁক গলে গোল লাইন অতিক্রম করে। ৫৫ মিনিটে পর্তুগালের স্কোর ৪-০ হয় রাফায়েল গুয়েরেইরো দারুণ প্লেসিং শটে। থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৬৭ মিনিটে গনসালোর হ্যাটট্রিক পূরণ সতীর্থের কাছ থেকে থ্রু পাস পেয়ে। এরপর গোলরক্ষককে বোকা বানান ডান পায়ের আলতো চাপে।
এর আগে ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে সুইস সমর্থকদের সান্ত্বনাসূচক গোল উপহার দেন ম্যানুয়েল আকাঞ্জি। গোল লাইনের উপর থাকা বলে পা লাগান তিনি। স্ইুজারল্যান্ডের প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ব্যর্থ মিশনের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন বিপক্ষ ফুটবলার রাফায়েল লিয়াও। ৯২ মিনিটে বক্সের ঠিক কোনা থেকে তার ডান পায়ের দর্শনীয় শটে অসহায় গোলরক্ষক সোমার।