আলকাসার কুউবির যুদ্ধ বা তিন রাজার যুদ্ধ। ১৫৭৮ সালের ৪ আগস্ট। মরক্কোর উত্তরাঞ্চীয় শহর ওয়াদি আল মাকজিন। এখানেই ভয়াবহ যুদ্ধ বাধে মরক্কো ও পর্তুগালের মধ্যে। তুরস্কের অটোম্যান সা¤্রাজ্যের সহায়তা নিয়ে এই যুদ্ধে মরক্কোর জয় মাত্র ৪ ঘণ্টায়। এটি ছিল পর্তুগালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিপর্যয়। যুদ্ধে মরক্কো তাদের দুই রাজা আবদ আল মালিক, আবু আবদুল্লাহ এবং পর্তুগালের তরুণ রাজা সেবাস্টিয়ান মারা যান। তাই এই যুদ্ধ তিন রাজার যুদ্ধ নামে পরিচিত। তিন রাজার যুদ্ধে মরক্কোর আট হাজার সৈন্য নিহত হয়। আর পর্তুগালের ১৫ হাজার সৈন্য ধরা পড়ে দাসত্ব বরণ করে। যুদ্ধে নিহত রাজা সেবাস্টিয়ানের লাশ পাওয়া যায়নি। যুদ্ধে হারের পর ইতি ঘটে পর্তুগিজদের পশ্চিম আফ্রিকান এই দেশটি দখলের সব পরিকল্পনা। আফ্রিকান ফুটবলে আরেক ইতিহাস গড়তে আজ পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচটি মরক্কোর জন্য আরেকটি যুদ্ধের সমতুল্য। আজ আল থুমামা স্টেডিয়ামে রাত ৯টার ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের বিপক্ষে জিতলে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিতে খেলা হবে মুসলিম এই দেশটির। অন্য দিকে ২০১০ সালের পর ফের বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিতে যেতে ইউরোপিয়ার দেশটির জিততে হবে।
বিশ্ব ফুটবলে তেমন কোনো শক্তিই নয় মরক্কো। অবশ্য এরপরও এই মরক্কো ১৯৮৬-এর মেক্সিকো বিশ্বকাপে পর্তুগিজদের ৩-১ গোলে উড়িয়ে জায়গা করে নেয় দ্বিতীয় রাউন্ডে। পর্তুগাল রোনালদোর একমাত্র গোলে সেটির প্রতিশোধ নেয় ২০১৮ সালে। আবিদি পেলে, জর্জ উইয়া, দিদিয়ের দ্রগবা, স্যামুয়েল ইতো, সাঈদু কেইতা, ইয়া ইয়া তোরের পর এখন আশরাফ হাকিমি, সাদিও মানে, হাকিম জিয়াস, মোহাম্মদ সালাহদের দাপট ইউরোপিয়ান ফুটবলে। কিন্তু সে তুলনায় বিশ্বকাপে তাদের অর্জনটা সামান্যই। দৌড় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্তই। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের পর, ২০০২ সালে সেনেগাল, ২০১০ সালে ঘানা হয়ে এবার মরক্কো আসরের শেষ আটে। আজ তারা পর্তুগালের বিপক্ষে জয় পেলেই প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিতে উঠে নতুন ইতিহাস গড়বে।
কাতার বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকা মরক্কো গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে শীর্ষে থেকেই। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা টাইব্রেকারে স্পেনকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় কোয়ার্টারে। যারা সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও ফিফা র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়ামকে হারাতে পারে তাদের পক্ষে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নদেরও কাবু করা সম্ভব।
পর্তুগাল ভুগছে রোনালদোর ইগো সমস্যা নিয়ে। একাদশে জায়গা হারানো এই স্ট্রাইকার অনুশীলনেও ঝামেলা পাকিয়েছেন রিজার্ভ ফুটবলারদের সাথে অনুশীলন করতে। যদিও পরে জানান, ‘দল পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। কেউ তাতে ফাটল ধরাতে পারবে না।’ মরক্কোর সামনে সুযোগ এই অবস্থাকে পুঁজি করে জয় তুলে নেয়ার। তবে রোনালদোকে অল্প সময়ের জন্য মাঠে রেখে পর্তুগিজরা দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে অবস্থান করছে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পর্তুগাল ৯ নম্বরে এবং মরক্কোর অবস্থান ২২-এ।