২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসে শুরু। ওই মিসে পুচকে আইসল্যান্ডের সাতে ১-১ গোলে ড্র করতে বাধ্য হওয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে আরো অধঃপতন। রীতিমতো মাটিয়ে পড়ে যাওয়া। তাদের একেবারে সাধারণ মানের দলে পরিণত করে ছাড়ে আরেক ছোট দেশ ক্রোয়েশিয়া। ০-৩ গোলে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটাই অনিশ্চিত হয়ে যায়। পরে মেসিতে উদ্ধার নাইজেরিয়ান বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে। নড়বড়ে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে ফের খেই হারিয়ে ফেলে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে। চার বছর আগে চার ম্যাচের একটিতে জয় আর দুই হার ও এক ড্রতে বিশ্বকাপ শেষ হোর্হে (জর্জ) সাম্পাওলির দলের। সেই আর্জেন্টিনাই এবার দুর্বার। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের লজ্জা কাটিয়ে তারা এখন তৃতীয় শিরোপার দ্বারপ্রান্তে। তাদের কি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা হবে? এই ছিল শঙ্কা। কারণ সেমিতে পরশু রাতের তাদের প্রতিপক্ষ ছিল গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। যাদের কাছে হারের দগদগে ক্ষতটা শুকাচ্ছিল না। সাথে এই দলটিই আগের ম্যাচে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। এবার বলকান অঞ্চলের সেই দেশকেই সমান সমান তিন গোল দিয়ে চরম প্রতিশোধ নিলো মেসিরা। রাশিয়ার নিজনি নবগ্রড মাঠে আর্জেন্টিনা পাত্তাই পায়নি ক্রোয়েটদের কাছে। গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে বিরতির পর তিন গোল। এবার সেই প্রতিশোধ নিতে মেসিদের বেশি সময় নিতে হয়নি। প্রথমার্ধেই ম্যাচটি এক পেশে করে ফেলে আর্জেন্টিনা। অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে আস্ট্রেলিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই গোলে লিড নিয়েও লিওনেল স্ক্যালোনি বাহিনীকে যে ব্রিবত কর আবস্থায় পড়তে হয়েছিল তাতে শঙ্কা ছিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও। তবে সে ভুল আর পরশু রাতে ৮৮ হাজার ৯৬৬ জন দর্শকের উপস্থিতিতে লুসাইল স্টেডিয়ামে হয়নি। ৩৪ ও ৩৯ মিনিটে ২-০ তে লিড নেয়ার পর ৬৯ মিনিটে মেসির স্কিল, গতি আর ড্রিবলিংয়ে দলের তৃতীয় গোল লড়াইয়ের সব শক্তিই শেষ ইউরোপিয়ান ফুটবল শক্তিটির। মেসিরা চার বছর আগের সেই হারের বদলাটা কড়ায় গণ্ডায় নিয়ে নিলো এবার। ৩৪ মিনেটে স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজকে গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ ফাউল কারলে রেফারির দেয়া পেনাল্টিতে লিওনেল মেসির কাতার বিশ্বকাপে পঞ্চম এবং সব মিলিয়ে ১১তম গোল। টাইব্রেকারে ঠেকাতে দক্ষ লিভাকোভিচ ঠিক দিকে শরীর ফেললেও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের শট ছিল তার নাগালের বাইরে। এরপর ৩৯ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ যে গোলটি করেন তা ছিল এক কথায় অতুলনীয়। নিজেদের পোস্টে কর্নারের বল ক্লিয়ার হয়ে মেসির পা ঘুরে মাঝ মাঠে নিজেদের সীমানায় বল পান ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। এরপর গতিতে তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে আগুয়ান গোলরক্ষককে বোকা বানান তিনি।
২-০তে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ৬৯ মিনিটে মাঝ রেখার কাছে থ্রো থেকে বল পান মেসি। এরপর গায়ে গায়ে লেগে থাকা বিপক্ষে ডিফেন্ডার জোসকো গার্ভারডিয়লকে নাকানি চোবানি খাইয়ে বক্সে ঢুকে ক্যাট ব্যাক করেন মেসি। তাতেই ডান পায়ের প্লেসিংয়ে ম্যাচে দ্বিতীয় এবং বিশ্বকাপে তৃতীয় গোল আদায় আলভারেজের।
আর্জেন্টিনার জয়ের এই ব্যবধান আরো বড় হতো যদি দিবালা, মেসিরা মিস না করতেন। আর ক্রোয়েটদের সব গোল প্রচেষ্টাই বাধা ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যার ফলে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে আর্জেন্টিনা।