ইংল্যান্ডের কাছে লর্ডস টেস্টে হারার পাশাপাশি আর একটা ধাক্কা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। আইসিসি'র টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বিরাট কোহালিকে টপকে আবার এক নম্বরে চলে এলেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ। এই অসি ব্যাটসম্যানকে সরিয়েই সপ্তাহখানেক আগে এক নম্বর হয়েছিলেন কোহলি।

লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসে অল্প রানে আউট হয়ে যাওয়ার ফলেই এক নম্বর ব্যাটসম্যানের লড়াইয়ে পিছিয়ে গেলেন ভারত অধিনায়ক। তবে শুধু কোহলিই নন, লর্ডস টেস্টে খারাপ পারফরম্যান্সের জেরে প্রায় সব ভারতীয় ক্রিকেটারের র‌্যাঙ্কিংয়েই প্রভাব পড়েছে। ব্যতিক্রম শুধু অশ্বিন। দুই ইনিংসে ২৯ ও ৩৩ নট আউট করার সুবাদে অলরাউন্ডারদের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলেন এই ভারতীয় স্পিনার।

লর্ডসে ভারতের বিরুদ্ধে দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন জিমি অ্যান্ডারসন। যে পারফরম্যান্সের সুবাদে নয় শ' পয়েন্টের সীমা টপকালেন তিনি। ৩৮ বছরের মধ্যে অ্যান্ডারসনই হলেন প্রথম ইংল্যান্ড বোলার, যিনি নয় শ' পয়েন্টের গণ্ডি টপকালেন। অ্যান্ডারসনের পয়েন্ট এখন ৯০৩।

এর আগে ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে নয় শ' ক্লাবের সদস্য ছিলেন সিডনি বার্নস, জর্জ লোম্যান, টনি লক, ইয়ান বোথাম, ডেরেক আন্ডারউড ও আলেক বেডসার।

অ্যান্ডারসনের বোলিংয়ের প্রশংসা শোনা গিয়েছে সচিন টেন্ডুলকরের মুখেও। সোমবার সচিন টুইট করেন, ‘‘অসাধারণ বোলিং করল অ্যান্ডারসন এবং ব্রড। আমাদের এখন ভাল ক্রিকেট খেলতেই হবে।’’

হরভজন সিংহ বলেছেন, ‘‘জিমি অ্যান্ডারসন হলো কিং অব সুইং।’’

স্টুয়ার্ট ব্রড আবার মন্তব্য করেছেন, ‘‘ভাগ্যিস গলফ বলের আঘাতটা গুরুতর হয়নি!’’

 

আরো পড়ুন : কোহলিদের খাবার তালিকায় গরুর গোস্ত

টেস্ট সিরিজ খেলতে এখন ইংল্যান্ড সফর করছে ভারত। প্রথম টেস্ট পরাজয়ের পর দ্বিতীয়টিতেও শঙ্কার মুখে। ফলে সমালোচনায় বিদ্ধ বিরাট অ্যান্ড কোং। এরই মধ্যে ঘটলো আরো এক বিপত্তি। দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় বিরাট কোহলিদের যে মেন্যু দেয়া হয়েছে, তাতে ছিল গরুর গোস্ত। যা দেখে রীতিমত ক্ষুদ্ধ ভারতীয় সমর্থকরা।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) টুইটার অ্যাকাউন্টে খাবারের মেন্যুর ছবি পোস্ট করার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। মেন্যুতে 'ব্রেইসড বিফ পাস্তা' নামে একটি আইটেম ছিল।

এই আইটেম দেখে ভারতীয় সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ভারতীয় দলকে গরুর মাংস দেয়া হলো?

কারণ হিন্দু ধর্মে গরুর গোস্ত খাওয়া নিষিদ্ধ।

বলে রাখা ভালো, লাঞ্চের মেন্যুটি ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্যই। কোহলিদের ধর্মের বিষয়টি হয়ত খেয়াল না রেখেই কাজটি করে ফেলেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। তবে এ ঘটনার জন্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দুঃখ প্রকাশও করেনি তারা। (১২ আগস্ট ২০১৮, প্রকাশিত সংবাদ)

 

আরো পড়ুন : বিরাটের ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তা ভারতীয় শিবিরে

গতকাল রোববার লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সময় চোখে মুখে যন্ত্রণা বার বার ফুটে উঠছিল বিরাট কোহলির। রান নেয়ার সময় খোঁড়াচ্ছিলেন। লর্ডসে লজ্জার হারের পাশাপাশি টিম ইন্ডিয়ার উদ্বেগের কারণ বিরাটের পিঠের ব্যথা। ভারত অধিনায়ক অবশ্য আশার বাণী শোনাচ্ছেন।

দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে শেষ সেশনে বেশ কিছুটা সময় কোহলিকে মাঠের বাইরে সাইডলাইনে দেখা গেছে। কোহলির মতো ক্রিকেটার খেলা চলাকালীন কোনোরকম সমস্যায় না পড়লে সাধারণত মাঠ ছাড়েন না। পিঠের চোটের জন্যই ভারত অধিনায়ক মাঠ ছেড়েছিলেন। মাঠেও বেশ কয়েকবার পিঠে হাত বোলাতে দেখা যায় কোহলিকে। চলতি বছরে আইপিএলের শেষ দিকে নাকি চোট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর কোহলির চোট নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সেই চোট আবার মাথাচাড়া দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে চার ইনিংসে এখন পর্যন্ত অ্যান্ডারসন-ব্রডদের বিরুদ্ধে একক লড়াই করতে দেখা গেছে কোহলিকে। এজবাস্টনে দুই ইনিংস মিলিয়ে তার ব্যাটে এসেছিল গুরুত্বপূর্ণ ২০০ রান। লর্ডসে প্রথম ইনিংসে ২৩ রানের পাশাপাশি পিঠের ব্যাথায় কাবু বিরাট কষ্ট করে ১৭ রান করেন। ভারতীয় দলের ব্যাটিং যখন আইসিইউতে তখন কোহলির ব্যাক পেন ভারতীয় শিবিরে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ।

ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে প্রচণ্ড চাপে টিম ইন্ডিয়া। ১৮ আগস্ট থেকে ট্রেন্ট ব্রিজে শুরু তৃতীয় টেস্ট। তৃতীয় টেস্টে কি খেলতে পারবেন বিরাট?

কোনোরকম রাখঢাক না করেই অধিনায়ক বলেন, "গত দু'দিন ধরেই ব্যাপারটা ভোগাচ্ছে। লোয়ার ব্যাকের সমস্যা। যে সমস্যাটা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় টের পেয়েছিলাম। বেশি ওয়ার্কলোডের জন্য হতে পারে। তবে ট্রেন্ট ব্রিজে পরের টেস্টের আগে হাতে পাঁচ দিন সময় পাচ্ছি। রিহ্যাব করে ফিট হয়ে যাব আশা করছি। এর মধ্যে সেরে উঠব।"