কী থেকে যেন কী হয়ে গেল! মুহূর্তেই সব বদলে গেল। হাসিমাখা মুখগুলোয় নেমে আসলো বিষাদের ছায়া। সব উল্লাস চাপা পড়লো পোড়া লাশের গন্ধে আর তীব্র আর্তনাদে।

জীবন গড়ার পাঠ নিতে এসে জীবনটাই হারিয়ে ফেললো দেড় ডজন প্রাণ। প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে শিশুগুলো পরিণত হলো কয়লায়! মাইলস্টোন এখন বিভীষিকাময়। থমকে দিয়েছে গোটা দেশকে।

মাইলস্টোন ট্রাজেডি নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার আগেই, জীবনটাকে বোঝার আগেই উঠতে হলো মৃত্যুমঞ্চে। জীবন যে সদা অনিশ্চিত, তা মনে করিয়ে দিলো আরো একবার।

যারা চলে গেছেন উত্তাপ সইতে না পেরে, তারা যেন অনেকটাই বেঁচে গেছেন! আহতরা পোড়া দেহখানা নিয়ে যেভাবে লড়াই করছে বেঁচে থাকার; কারো কলিজা কাঁপতে আর কী লাগে!

এমন বিভৎসতা নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে। ছুঁয়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, তানজিদ তামিম, আকবর আলি, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজারা শোক জানিয়েছেন আগেই।

এবার শোকবার্তা দিলেন সাকিব আল হাসান। ফেসবুকে তিনি লিখেন- ‘আজ মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে ভবিষ্যতের স্বপ্নরা গড়ে ওঠে, সেটাই আজ পরিণত হয়েছে শোকস্তব্ধ এক বেদনার স্থলে। এক নিমিষে ঝরে গেছে অনেক তরুণ প্রাণ, নিভে গেছে অগণিত স্বপ্ন।’

তিনি আরো লেখেন, ‘একজন বাবা হিসেবে, একজন বাংলাদেশী হিসেবে, এবং একজন মানুষ হিসেবে এই শোক, এই যন্ত্রণা আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। প্রতিটি নিঃশেষিত পরিবারের কষ্ট আমার নিজের বলেই মনে হচ্ছে।’

সাকিব লেখেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং আহতদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। এই কঠিন সময়ে আমরা যেন একে অন্যের পাশে দাঁড়াই।’

এদিকে এই ঘটনায় শোক ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও। যা ছুঁয়েছে পাকিস্তানি পেসার শাহিন আফ্রিদিকেও। আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হৃদয়বিদারক এবং মর্মান্তিক। দুর্ঘটনার শিকার সকলের জন্য প্রার্থনা। পরিবারগুলোর জন্য অলৌকিক কিছু ঘটুক এবং তাদের শক্তি ও সাহস কামনা করছি।’

উল্লেখ্য যে, রাজধানীর উত্তরায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আজ দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। তাতে আগুন ধরে যায় স্কুল ভবনে। ঝলসে গেছে অনেক তাজা প্রাণ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৯ জন। আহতের সংখ্যা শতাধিক। যার অধিকাংশই শিক্ষার্থী।