ফুটবলে শিরোপার স্বাদ যেন প্রায় ভুলতেই বসেছে ব্রাজিল। অথচ সেই ব্রাজিলেই এবার ক্রিকেটে ধরা দিয়েছে আনন্দের দিন। ৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচবারের ফুটবল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেশটি।
‘একটি ইতিহাস! দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল...!’—সামাজিক মাধ্যমে এভাবেই নিজেদের জাতীয় দলের সাফল্য উদযাপন করেছে ক্রিকেট ব্রাজিল। ঐতিহাসিক মুহূর্ত তো বটেই, কারণ দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে এর আগে কখনো শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে তাদের গর্জন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন, আমরাই ব্রাজিল!’ কলম্বিয়ায় রোববার টুর্নামেন্টের মূল পর্বের ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পানামাকে ৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ব্রাজিল।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রাজিল ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ১২৮ রান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পানামার প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বল হাতে শেষ ওভারটি করতে আসেন ব্রাজিলের অধিনায়ক মিশেল আসুনসাও।
প্রথম তিন বলে মাত্র দুই রান দেন তিনি। চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন পানামার সুফিয়ান তারাজিয়া। পরের বলটি ওয়াইড হলেও বাই থেকে আরো এক রান আসে। ফলে শেষ দুই বলে পানামার প্রয়োজন দাঁড়ায় ৪ রান।
কিন্তু চাপের মুহূর্তে দারুণ বোলিং করেন আসুনসাও। পঞ্চম বলে ২৭ রান করা ইরফান হাফেজিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। শেষ বল থেকেও কোনো রান নিতে পারেনি পানামা। ৩ রানের জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকার সেরা হয়ে যায় ব্রাজিল।
ব্যাট হাতে ৩০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন আসুনসাও। সুবাদেই হয়েছে ৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান।
১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের এবারের আসর ছিল ২১তম। ব্রাজিল এর মাঝে ২০ বারই অংশ নিয়েছে। তবে শিরোপার জন্য অপেক্ষা বাড়ছিল। ২০২২ ও ২০২৪ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর অবশেষে এবার কাঙ্ক্ষিত শিরোপা হাতে তুলেছে তারা।
অবশ্য দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে একসময় একচেটিয়া আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। ১৯ বার অংশ নিয়ে ১২ বারই শিরোপা জিতেছে তারা। এর বাইরে মেক্সিকো জিতেছে ৩ বার। গায়ানা ও চিলি ২ বার করে এবং পানামা জিতেছে একবার।
এমনকি একপর্যায়ে জাতীয় দলের পরিবর্তে ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডও পাঠাতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। আর গতবার ও এবারের আসরে অংশই নেয়নি লিওনেল মেসির দেশ। বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্রিকেট দল আরো উঁচু স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ফুটবল দিয়ে বিশ্বকে মাত করা ব্রাজিলের ক্রিকেট ইতিহাসও কিন্তু নতুন নয়। বিদেশী কোনো দলের বিপক্ষে তাদের জাতীয় দলের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল ১৮৮৮ সালে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক পথচলা আরো পরে। তারা আইসিসির অধিভুক্ত হয় ২০০২ সালে। ২০১৭ সালে দেশটি পায় সহযোগী সদস্যের মর্যাদা।
তুলনায় আর্জেন্টিনার ক্রিকেট ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ। বিদেশী দলের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল ১৮৬৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে। ১৯৭৪ সালেই আইসিসির সহযোগী সদস্য হয় তারা। একসময় বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবে পরিচিত আইসিসি ট্রফিতেও আর্জেন্টিনা অংশ নেয় ১৯৭৯ সাল থেকে।
সেই আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের বিপক্ষেও তিনবার মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা—১৯৮৬, ১৯৯৪ ও ১৯৯৭ সালে। তবে সেই তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।ে






