রাজধানী লাগোয়া আশুলিয়ায় বালুভর্তি একটি ট্রাকের চাপায় দুইজন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টায় আশুলিয়ার ঘোষবাগ নাসা গ্রুপের সামনে বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ট্রাক চাপায় নিহতরা হলেন, অটোরিকশাচালক মাসুদ রানা (৩০) ও পোশাককর্মী মৌসুমি আক্তার (২৫)। মাসুদ নওগাঁ জেলার দামুড়হাট থানাধীন মঙ্গোলিয়া এলাকার মইন উদ্দিনের ছেলে। তিনি তার স্ত্রী পোশাককর্মী আফরোজা ও তার দুই শিশু সন্তান মাসুকা ও সিফাতকে নিয়ে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার আমির উদ্দিন কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

অপর নিহত পোশাককর্মী মৌসুমি গাইবান্ধা জেলার মীরগঞ্জ থানাধীন চাচিয়াগঞ্জ এলাকার জাহিদের স্ত্রী। তিনি ঘোষবাগ এলাকার নাসা গ্রুপে চাকরি করতেন। তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে তার আটমাস বয়সী শিশুপুত্র মাহিম ও তার স্বামী জাহিদকে নিয়ে ঘোষবাগ এলাকার সিরাজের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্বামী জাহিদ নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপে অপারেটর পদে চাকরি করেন।

আহতদের স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাস্থলে ট্রাকের নিচ থেকে নিহত মৌসুমির আট মাস বয়সী ছেলে মাহিনকে মায়ের কোল থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

ঘাতক ট্রাকটিকে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ জব্দ করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে মৌসুমির স্বামী প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ বলেন, শুক্রবার বন্ধ থাকায় স্ত্রী মৌসুমি ও তার শিশুপুত্রকে নিয়ে সকালে ঘোষবাগ এলাকার কাজী সিরাজের ভাড়াটিয়া বাসা থেকে ঘোষবাগ নাসা গ্রুপের সামনে স্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষোয় ছিলেন। এসময় স্ত্রীর অনুরোধে বাচ্চার জন্য চিপস আনতে স্বামী জাহিদ পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে যান। এমন মুহূর্তে একটি বালুভর্তি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৭৬৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পার্কিং করা কয়েকটি রিকশা ও দাঁড়ানো যাত্রীদের ওপর উঠিয়ে দেয়।

এতে ঘটনাস্থলে রিকশাচালক মাসুদ নিহত হন। তিনি দ্রুত দৌড়ে এসে তার স্ত্রী ও শিশু পুত্র মাহিনকে ট্রাকের সামনের চাকার নিচ থেকে উদ্ধার করেন। এসময় তার স্ত্রীর বুকের ওপর তার শিশুপুত্র মাহিন ছিল। মাহিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও স্ত্রী মৌসুমিকে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসী জানান, সকাল পৌনে ৮টায় বালুভর্তি ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্কিং করা রিকশা ও অপেক্ষমান যাত্রীদের ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে দুই রিকশাচালক ফরহাদ ও জাহের আলী এবং পথচারী ষাটোর্ধ্ব চান্দু বিবি আহত হন।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে দু’জন নিহত এবং তিনজন আহত রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফরহাদ ও জাহের আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর চান্দু বিবির চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে মামলা প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। তবে ট্রাকের চালক আকরাম (৩৫) ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।