ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি লুৎফর রহমান মোল্যাকে (৩২) দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল ও ২শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাকে ভাঙ্গার চালপট্টি থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল আটক করে।

ফরিদপুরের এএসপি (ভাঙ্গা সার্কেল) রবিউল ইসলাম জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৯টায় চালপট্টি থেকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি লুৎফর রহমান মোল্যাকে আটক করা হয়। এসময় তার প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো- ম-০০-০৪৩৪) এর সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা ২শ’ পিস ইয়াবা, ২ রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, রাতেই লুৎফরকে ফদিপুরের ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড় ধরনের ইয়াবা ও অস্ত্র বেচা-কেনা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভাঙ্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, ইয়াবা ও একটি প্রাইভেটকারসহ লুৎফর রহমান মোল্যাকে আটক করতে সক্ষম হই।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগ সভাপতি লুৎফর এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বেচা-কেনাসহ মাদক ব্যবসা করে আসছিলো বলে এলাকাবসীর নিকট থেকে অভিযোগ ছিলো। এ কারণে নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে লুৎফরকে ধরতে বিভিন্ন বাহিনী তাকে নজরে রাখে। অবশেষে সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের হাতে অস্ত্র ও ইয়াবা বিক্রির সময়ে তাকে হাতে নাতে আটক করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার মোহরার মৃত গিয়াসউদ্দিন মোল্যার ছেলে লুৎফর মোল্যা ভাঙ্গা কেএম কলেজের ছাত্র ছিলো। তবে সে উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডিও পেরোতে পারেনি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বিরুদ্বে নিরীহ মানুষকে নির্যাতন ও অত্যাচার, ফ্লাট দখল, জায়গা দখল ও চাদাঁবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।