ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাবেদ হোসেন নামে এই মামলার আরেক আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও সে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার হন মুকসুদ আলম। অন্যদিকে জাবেদ হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর রয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মনিরুজ্জামান আজ শুক্রবার সকালে মকসুদকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় কাউন্সিলর মকসুদকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে এখনো ফেনী আনা হয়নি।’

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে আছেন পাঁচজন। তারা হলেন- সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, একই মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেন।

নুসরাত এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এস এম মুসার মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নুসরাত তৃতীয়।

গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন দেয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

এর আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে।