শীতের তীব্রতা কমতে না কমতেই শুরু হয় বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্ত আসার সাথে সাথেই প্রকৃতির নিয়মেই গাছে গাছে আমের মুকুলের দেখা মিলছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায়।
তবে মাঝে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আমের মুকুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন আমচাষীরা। তবে কৃষি বিভাগের দাবী আমের মুকুল নষ্ট হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। এখনও সব গাছে পুরোপুরি মুকুল আসেনি। তবে শীত কেটে যাওয়ার পর পুরোপুরি মুকুল আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্র জানায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ৬১২ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। সব চেয়ে বেশী আমের চাষ হয় সীমান্ত ইউনিয়নে।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমচাষীরা বলছেন, ইতোমধ্যে উপজেলার ৭০ ভাগ আম বাগানে গাছে গাছে মুকুল শোভা পাচ্ছে। আমের ফলন ভালো পাওয়ার আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।
উপজেলার দৌলৎগঞ্জের আমচাষী মুন্সী আব্দুস সবুর খোকন বলেন, তাদের ছয় একর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ গাছে মুকুল এসেছে। গাছের পরিচর্যায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন তারা।
পৌর এলাকার নারায়নপুরের আম ব্যবসায়ী বশির উদ্দিন জানান, এই বছর তিনি ৫০টি আমবাগান কিনেছেন। ইতোমধ্যে বাগানের ৭০-৭৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছে।
তিনি আশা করেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব গাছেই মুকুল আসবে।
উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন এলাকার সদরপাড়া ও নতুনপাড়ার বেশিরভাগ জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব বাগানে গাছে গাছে মুকুলে ভরে গেছে। বাগান মালিকেরা তাদের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার রাজনগর গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, চলতি মওসুমে শীতের আমেজ কাটতে না কাটতেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ভরে গেছে। এখন শুধু গাছের বাড়তি পরিচর্যা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ছোট বড় বাগান পরিচর্যায় তাদের সময় এখন ব্যয় করতে হচ্ছে। বাগানের আগাছা পরিষ্কারসহ পোকা দমনে বিভিন্ন কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে ।
জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, জীবননগর উপজেলায় ৬১২ হেক্টর জমিতে কয়েক হাজার ছোট বড় আম বাগান রয়েছে। জীবননগর উপজেলায় ফজলি, লখনা, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, হিমসাগর, দুধসর ইত্যাদি আম চাষ করা হয়ে থাকে। তবে আম্রপালির ফলন বেশি ও লাভজনক হওয়ায় উপজেলার চাষিরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেশি আম্রপালি জাতের আম বাগান গড়ে তুলেছেন।
উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আমচাষী সেকেন্দার আলী বলেন, গাছে গাছে মুকুল আসার অনেক আগে থেকে বাগানের যত্ন শুরু করা হয়েছে। এখন দুই দশমিক পাঁচ ইসি ফিডল্যাম, সালফার শাহেন ও ইমিডাক্লোপ্রিড ইমিসাফি ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। এতে গাছে বেশি পরিমানে মুকুল আসার সম্ভবনা থাকে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার সারমিন আক্তার বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে।
তিনি বলেন, বাগান মালিকদের আমরা বাগান পরিচর্যা এবং ওষুধ স্প্রে করার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। মুকুল পুরোপুরি ফুটলে ও গুটি বাধার পর কীটনাশক ব্যবহার করতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে গাছে পোকা-মাকড় না থাকলে ও গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকলে অহেতুক গাছে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।






