ভারতের সীমান্তে যশোরের শার্শা উপজেলায় বেনাপোল বন্দরে হ্যান্ডলিংক শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করতে এসে মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ করেছে একদল দুর্বৃত্ত। সোমবার বন্দরে এই ঘটনার ফলে মাল লোড-আনলোড করা বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল হ্যান্ডলিংক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা জানান, সকাল ১০টার দিকে তারা বন্দরের ভেতরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সময় বেনাপোল পৌর কমিশনার রাশেদের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল ইউনিয়ন অফিস দখলের চেষ্টা করে।
শ্রমিকরা বলেন, ‘বেনাপোল পৌর কমিশনার রাশেদের নের্তৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল লাল পোশাক পরে বন্দরের সামনে এসে আমাদের ইউনিয়ন অফিস দখলের চেষ্টা করে। এসময় তারা পিস্তল উচু করে ফায়ার করে এবং ৫০ থেকে ৬০ টি বোমা বিস্ফোরন ঘটায়। চারিদিকে বোমার আতংকে আমরা সাধারন শ্রমিকরা বন্দরের ভিতরে অবরুদ্ধ ছিলাম। আমাদের কয়েকজন শ্রমিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে তারা। আহতরা নাভারন হাসপাতালে চিকিংসাধীন আছে।’
বোমা বিস্ফোরনের ফলে বন্দর, কাস্টমসসহ আশপাশের শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ নিরব ভুমিকা পালন করে। পরে বেলা ১১ টার দিকে শার্শা থানা পুলিশের একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। তবে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, ‘আমরা খবর পেয়ে বেনাপোল বন্দর এলাকায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী গ্রুপের তাণ্ডব দেখতে পাই। তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বেনাপোল বন্দর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছিলো। আমরা আসার পর উত্তপ্তকারী গ্রুপটি পালিয়ে যায়।’
নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সাথে বেনাপোল তালসারী এলাকার রাশেদ নামে একজন জড়িত থাকার কথা জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশসহ চারজন শ্রমিক আহত হয়েছে।’
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার জানান, হ্যান্ডলিংক শ্রমিকদের সৃষ্ট গোলযোগের কারনে সকাল থেকে বন্দরে লোড আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।






