নোয়াখালীর হাতিয়াতে ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে (৪২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৬৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বর্তমান ইউপি সদস্যসহ দু’জনকে আটক করেছে।
শুক্রবার নিহতের ছেলে বিটেল চন্দ্র দাস হাতিয়া থানায় মামলাটি করেন।
আটকরা হলেন, উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন চন্দ্র দাস (৪০)। তিনি একই এলাকার মৃত নরত্তোম দাসের ছেলে। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গামছা খালি গ্রামের আনাজল হকের ছেলে আমজাদ (৩৪)। তার বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় অগ্নিসংযোগসহ সাতটি মামলা রয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য রবীন্দ্রকে হত্যার ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে নিহতের ছেলে এ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আশ্রাফুল হক (২৮) ও মামলায় ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে তার চাচা চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হালীম আজাদকে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই আসামিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আটক করা হয়। আটক আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এবং পূর্ব শক্রতার জেরে গত ৯ জুন (বুধবার) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোডে ইউপি সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। সে একই এলাকার তালুকদার গ্রামের সতিশ মহাজনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। আগামী (২১ জুন) ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় বাংলাবাজারে ক্লোস্টোরে রেখে মাছের ব্যবসা করতেন। বুধবার রাতে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেল যোগে হাতিয়া পৌরসভার ওছখালী এলাকার মাস্টার পাড়ায় তার বাসায় যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে তাদের মোটরসাইকেলটি চরঈশ্বর প্রধান সড়কের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের নন্দ রোডে পৌঁছলে একদল লোক তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে গতিরোধ করে। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা আল আমিন দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে রবীদ্র। হামলাকারীরা প্রথমে রবীন্দ্রকে গুলি ও পরে কুপিয়ে জখম করে এবং তার হাতের কব্জি ও পায়ের রগ কেটে ফেলে যায়। পরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবীন্দ্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।






