করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে সাড়ে ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সমাকে) ও সদর হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রোববার ভোর ৫টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।
এদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দু’জন ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন দু’জন। এ নিয়ে রোববার পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৪ জনের। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ২৫১ জন। রোববার দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার রাতে মৃত ব্যক্তিরা হলেন করোনা আক্রান্ত যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ি গ্রামের জনাব আলী সানার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৪৫) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহিম (৮৫)।
আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ফিংড়ী গ্রামের মৃত নুর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৭০) ও আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের শোভানালী গ্রামের মৃত গফ্ফার আলী গাজীর ছেলে মুক্তার আলী গাজী (৬৫)।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফয়সাল আহমেদ জানান, করোনা আক্রান্ত যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেন গত ১১ জুন দুপুরে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি মারা যান।
তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আব্দুর রহিম ৪ জুন বেলা ১১টার দিকে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামের নজরুল ইসলাম জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে শনিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সামেক হাসপাতালের ফ্লু কর্ণারে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ দিকে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আশাশুনির শোভানালী গ্রামের মুক্তার আলী গাজী ৬ জুন ভোর রাত ৩টার ২৫ মিনিটে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে রোববার পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৪ জনের। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ২৫১ জন। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কুদরত-ই-খোদা এসব মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ দাফনের জন্য বলা হয়েছে।






