বরগুনার পাথরঘাটায় স্ত্রী সুমাইয়া বেগম ও ৯ মাস বয়সী মেয়ে সন্তান সামিরা আক্তার জুইকে হত্যার অপরাধে স্বামী শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করে সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশা মামলা করেছে।
শনিবার দুপুর ১টা ২৫মিনিটের সময় এ মামলা করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলো, শাহিনের মা শাহিনুর বেগম (৪২), মামাতো ভাই ইমাম হোসেন (২২), ইমামের শ্যালক রিমনসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজন।
জানা যায়, দীর্ঘ দিন আগে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতেমপুর এলাকার রিপন বাদশার মেয়ে সুমাইয়ার সাথে পাশের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে শাহিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেম আস্তে আস্তে শারিরীর সম্পর্কে গড়ায়। তখন সুমাইয়া অন্তসত্তা হয়ে পরলে তার বাবা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় শাহিন কারাভোগ করে বিয়ে করার শর্তে মুক্তি পায় এবং বিয়ে করে। এর পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকত। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে একাধীকবার শালিশ মিমাংসা হলে একইভাবে চলতে থাকে তাদের মধ্যে। পরে গত বুধবার দুপুরে সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে তার বাবা দাওয়াত করলে সেখানে শাহিন না গিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে পাঠিয়ে দেয়।
বাবার বাড়ি থেকে সুইমাইয়া আসার পরে ওই দিন রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে বাড়ির পেছনের খালের পাড়ে গর্ত করে সুমাইয়ার পা গাড়ের সাথে রশি দিয়ে শক্ত করে বেধে পুতে রাখে। পরে সুমাইয়ার পরিবার লোকজন মা-মেয়েকে না পেয়ে বাবা রিপন বাদশা পাথরঘাটা থানায় জানায়। স্থানয়ীরা বাড়ির পেছনে গর্ত দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পাথরঘাটা থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: রাজেত আলী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে সুসাইয়ার বাবা রিপন বাদশা পাথরঘাটা প্যানেল কোর্টে ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ে করেছেন।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল বাশার জানান, স্ত্রী ও সন্তান হত্যার দায়ে শাহিনের মা শাহিনুর বেগম ও মামাতো ভাই ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।






