সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী পশুর হাট চালানো ও রশিদ বিহীন হাসিল (খাজনা) আদায়ে দায়ে হাটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই হাটের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নজরুল ইসলাম পশুর হাটটি বন্ধ করে দেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি নিশ্চিত করন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলেও জমজমাট গোলখালী ইউিনিয়নের নলুয়াবাগীর পশুর হাট। হাটের ভেতর কোথাও কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। সকাল ৮টা থেকে পশুর হাট শুরু করে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার। বিরামহীন দুপুর নাগাদ হাট চালাচ্ছিল।

নলুয়াবাগী হাটে উপজেলার পক্ষিয়া গ্রামের পশুর পাইকারি ক্রেতা নাসির তালুকদার জানান, নলুয়াবাগী হাটে প্রতি সপ্তাহে কমক্ষে ৬০০ থেকে ৮০০ গরু বিক্রি হয়। এ হাটে সরকার নির্ধারিত ফি থেকেও ইজারাদার শাহ মেহেদী ফরহাদের অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

নলুয়াবাগী হাটের ক্রেতা আবুল হোসেন জানান, আমি ৬১ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। আমার কাছ থেকে ইজারাদার ৬০০ টাকা হাসিল (খাজনা) রেখেছেন। এছাড়া বিক্রেতার কাছ থেকেও ২০০ টাকা রেখেছেন। এ হাট ইজারাদারের ইচ্ছে অনুযায়ী চলে। হাসিলের কোনো রশিদের কপি দেয়া হয় না। ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো প্রতিবাদ করেও লাভ হয় না।

স্থানীয় মহিষ বিক্রেতা মো: দেলোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে হাট শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসন এসে বন্ধ করে দেয়। এ হাটের ইজারাদার কোনো হাসিলের রশিদ দেয় না।

এ বিষয়ে জানার জন্য গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো: নাসির উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে নলুয়াবাগী হাটে উপস্থিত হয়ে পশুর হাট বন্ধ করে দিয়েছি। যারা হাট চালাচ্ছিল আমাদের যাওয়ার খবর পেয়ে তারা পালিয়ে গেছে।