আগামীকাল রোববার কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসাহ-উত্তেজনার কমতি নেই সমর্থকদের মাঝে। কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অটোরিকশা, সিএনজি ও পিকআপ যোগে মাইকিং করা হচ্ছে।

গত ৬ জুলাই খেলা নিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা থেকে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ।

আগামীকাল রোববার সকাল থেকে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। এছাড়া এবার জেলার কোথাও বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ দেয়া হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে এমনিতেই ইউনিয়ন পর্যায়ের বিট পুলিশিংয়ের টিমগুলোর পাশাপাশি পুরো জেলায় পুলিশের ২৫টিরও অধিক বিশেষ টিম কাজ করছে। তবে কোপা আমেরিকার খেলাকে ঘিরে সমর্থকরা যেন সংঘাতে না জড়াতে পারে-সেজন্য বিশেষ টিমগুলো আরো বেশি তৎপর থাকবে। ম্যাচ শুরুর আগ থেকেই পুলিশের বিশেষ টিমগুলো বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় টহল দেবে।

তিনি বলেন, কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেজন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে। খেলা দেখতে হবে ঘরে বসে। বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। গ্রাম পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদেরকেও এসব বিষয়ে বলা হয়েছে। তারা পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। খেলাকে কেন্দ্র করে কাউকেই বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হবে না।

এই বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচারণা চালাতে আমার গাড়িতেও মাইক লাগিয়েছি। এছাড়া সদর মডেল থানাধীন ১৫টি বিটের কর্মকর্তারা মাইকিং শুরু করেছে। বাইরে প্রজেক্টরে গণজমায়েত হয়ে খেলা দেখা যাবে না, বাসায় বসে খেলা দেখতে হবে। এছাড়া খেলা পরবর্তী কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল বাজারে নোয়াব মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করেন আর্জেন্টিনা সমর্থক জীবন ও তার সথীরা। এর আগে ওই দিন সকালে নোয়াব মিয়ার ভাতিজা ব্রাজিল সমর্থক রেজাউলের সাথে খেলা নিয়ে জীবনের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর জেরে জীবন ও তার সাথীরা রেজাউলের চাচাকে একা পেয়ে মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাতেই তিন আর্জেন্টিনা সমর্থককে মারধর করেন ব্রাজিল সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।