কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিন রোববার মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে দেশের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয় ঘাট অনেকটা ফাঁকা। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা -উপজেলা থেকে বিভিন্ন উপায়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা সাধারণ যাত্রীদের ভিড় ছিল চোঁখে পড়ার মতো।
এ সময় ঘাট সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, রাতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরো বেশি থাকে। সরেজমিন রোববার বেলা ১২টা হতে ২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থান করে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, কঠোর বিধি-নিষেধের তৃতীয় দিন রোববার ভোর থেকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, থ্রীহুইলাসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন। অনেক যাত্রীকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে পায়ে হেটে ফেরি ঘাটে পৌঁছাতে দেখা যায়। তাদেরকে পথে পথে পুলিশের বাঁধা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এছাড়া ঘাটে পৌঁছানোর পরও তারা ম্যাজিস্ট্রেটের জেড়ার মুখে পড়ছেন।
জরুরি পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসি কতৃপক্ষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ৯টি ফেরি চালু রয়েছে। একেকটি ফেরি ঘাটে পৌঁছা মাত্রই ঘাটে থাকা যাত্রী ও যানবাহন ফেরিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি।
বেলা সাড়ে ১২ টায় দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ঘাটে দেখা যায়, হাসনাহেনা নামের একটি ছোট ফেরি কয়েকটি জরুরি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ সময় ওই ঘাটে ঢাকামুখি শতাধিক অপেক্ষমান যাত্রী ফেরিতে উঠার চেষ্ট করলেও সেখানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে আটকে দেন।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দেশ ও দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। এটা আমাদের সকলকে মেনে চলা উচিত।
কুষ্টিয়া হতে মোটরসাইকেলে আসা মাহাবুব আলম (টিটু) জানান, আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক। কোরবানি দিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আজ ঢাকায় ফিরছি। কিন্তু ৬ নম্বর ফেরিঘাটে ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে আটকে দেন। পরে ৫ নম্বর ঘাটে আসা অন্য একটি ফেরিতে নদী পার হয়েছি।
মাগুরার মুহম্মদপুর হতে আসা খায়রুজ্জামান বলেন, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। রোববার থেকে অফিস খুলেছে। কিন্তু আমি যেতে পারিনি। বসকে বলে কয়ে মানিয়েছি। সোমবার হতে অফিস করতেই হবে। তাই কঠোর লকডাউনের মধ্যে অনেক ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি।
যশোর হতে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, ঢাকায় একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করি। চাকরি রক্ষার জন্য ভোর ৬টায় যশোর হতে রওনা দিয়েছি। বিভিন্ন ছোট ছোট গাড়িতে, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেলা ১টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছেছি। জানি না পাটুরিয়া ঘাট থেকে কিভাবে ঢাকায় পৌঁছাব।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে থানা পুলিশ মহাসড়ক ও দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, নৌরুটে ছোট-বড় মিলে মোট ১৬টি ফেরি আছে। এর মধ্যে জরুরি পারাপারের জন্য ৯টি ফেরি চালু রেখে অবশিষ্ট সাতটি ফেরি ঘাটে বেঁধে রাখা হয়েছে। চালু ফেরিগুলো ঘাটে আসা জরুরি যানবাহন ও যাত্রীদের পারাপার করছে।






