করোনা সংক্রমণরোধে চলমান লকডাউনের মধ্যে শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার খবরে গাইবান্ধার বালাসীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে ঢাকামুখে রওয়ানা হচ্ছেন জেলার অনেক গার্মেন্টস শ্রমিক।
শুক্রবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পহেলা আগস্ট কারখানা খোলার খবরে সড়কপথে ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকার দিকে রওয়ানা হচ্ছেন। গাদাগাদি করে যে যেভাবেই পারছেন ঢাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার সকাল থেকেই জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীর উপজেলার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বৃষ্টিতে ভিজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকেই গন্তব্যে যাওয়ার ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি করছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া হিসেবে যারা আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা গুনতে পারছেন তাদের ভাগ্যে জুটছে চার চাকায় সামান্য জায়গা। যারা এ কড়া ভাড়া গুনতে পারছেন না তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অনেকে আবার বালাসী ঘাটে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সায়ঞ্জবাড়ী ঘাট হয়ে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হচ্ছেন।
ফুলছড়ির বালাসী ঘাটে কথা হয় গার্মেন্টস শ্রমিক শামিউলের সাথে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন এভাবে ঢাকায় রওয়ানা হচ্ছেন- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কারখানা খুলবে এক তারিখ থেকে। সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ আছে। গতকাল রাত থেকে গোবিন্দগঞ্জ চারমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম যেতে পারিনি। ভাড়াও চায় আট গুন। আর নৌকা দিয়ে গেলে ভাড়া কম লাগবে তাই জীবনের ঝুঁকি হলেও এ পথে যেতে হচ্ছে।
বালাসী ঘাটে নৌ মাঝিরা জানান, দলে দলে লোক বালাসীতে আসছে সায়ঞ্জবাড়ী ঘাটে যাওয়া জন্য। লোকের খুবই চাপ। যে নৌকায় ৪০ জন লোকের ধারণ ক্ষমতা সেখানে জোর করেই ১০০’র উপরে লোক উঠে যাচ্ছে। আমাদের বলার কিছু থাকে না। এ পথে জীবনের অনেক ঝুঁকি আছে।
নৌপথের যাত্রীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কারখানা খুলছে। না গেলে চাকরি চলে যাবে। করোনার সময় চাকরি চলে গেলে খামু কি? কেউ তো বসে খাওয়াবে না। নৌকায় গেলে ভাড়াও অনেক কম লাগছে । তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ পথে রওয়ানা দিচ্ছি। জীবন আর জীবিকা দুটিরই প্রয়োজন আছে।






