পাইকগাছায় টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। তলিয়ে গেছে চিংড়ী ঘের, রাস্তা-ঘাট, আমনের বীজ তলা। পানের বরজসহ ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত টানা তিন দিন অবিরাম ভারি বর্ষণে পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। অধিকাংশ এলাকার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ ও সংকুচিত হওয়ায় এসব এলাকার পানি খুব ধীরে নিষ্কাশিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ এলাকার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার আমনের বীজতলা। অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

চাঁদখালী এলাকার শফিক ইসলাম জানান, সেখানকার বৃষ্টিপুর, শাহপাড়া, কৃষ্ণনগর, কাটাখালি তথা ও এলাকার পানি কাটাবুনিয়া বদ্ধ জলমহলের উপর দিয়ে নদীতে পড়ে চৌমহনীর ব্রিজ হয়ে মুল নদীতে পড়েছে। কিন্তু সরকারি এসব খালের ইজারা নিয়ে ইজারাদারের পক্ষে সেখানে নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, এখনো কাটাবুনিয়ার নারকেলতলার চক পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়া মৎস্য ঘেরের ফাঁড়িগুলো পানিতে একাকার হয়ে আছে। এক্ষত্রে নৈর নদী ও কাটাবুনিয়ার বদ্ধ জলমহল ইজারাদাররা লাভবান হচ্ছেন।

রাড়ুলী ইউপি চেয়ারম্যান আ: মজিদ গোলদার জানান, টানা বৃষ্টিতে তার ইউনিয়নের বেশ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ঘেরের পাশাপাশি নিচু এলাকার বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। জেলে পল্লীর অনেক কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে।

সর্বশেষ বৃষ্টি বন্ধ হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে তারা উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।