টাঙ্গাইলে করোনার টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে সুই পুশ করেও টিকা না দিয়ে সিরিঞ্জ ফেলে দেয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী সাজেদা আফরিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়াসহ ক্লোজ করা হয়েছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। স্বাস্থ্যকর্মী সাজেদা আফরিন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডেপুটি সিভিল সার্জন শামীম হুসাইন চৌধুরী জানান, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে টিকা না ঢুকিয়েই সিরিঞ্জ ফেলে দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নিজেও লিখিতভাবে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তার নিজের অসুস্থতা এবং টিকা গ্রহণকারীদের চাপ বেশি থাকায় এমনটি হয়েছে বলে ওই সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো: সাহাবুদ্দিন খান তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, প্রতিবেদনটি ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাটি সত্য, যা সাজেদা আফরিন নিজেও স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় সাজেদা আফরিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়াসহ তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার বেলা ১১টার দিকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ নম্বর বুথে টিকা দিচ্ছিলেন সাজেদা আফরিন। এ সময় তিনি টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে সুই ঢুকালেও টিকা প্রবেশ না করিয়েই তাড়াহুড়ো করে সিরিঞ্জ ঝুড়িতে ফেলে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি টিকাকেন্দ্রে আসা কয়েকজনের নজরে আসে। তারা আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামীম হোসেনকে বিষয়টি জানান। পরে ঝুড়িতে থাকা পরিত্যক্ত সিরিঞ্জগুলো বের করে দেখেন আরএমও। তখন তিনি সেখান থেকে ২০টি সিরিঞ্জের ভেতর টিকা দেখতে পান। বিষয়টি তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানান। এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন শামীম হুসাইন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন। তদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি।