শাহ জালাল জীবিত আছেন, দেহে প্রাণও আছে, হাঁটতে চলতেও পারেন। তবে সরকার ঘোষিত গণটিকার রেজিস্ট্রেশন করতে এসে জানতে পারেন তিনি মৃত।
করোনাভাইরাসের টিকা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাস পাড়া গ্রামের মো: শাহ জালাল (৫৫) নামের এক কৃষক।
শনিবার করোনার টিকা নিতে এসে এমন পরিস্থিতির শিকার হন তিনি।
শুধু মো: শাহ জালাল হাওলাদারই নয়, প্রথম ধাপে নির্বাচনে উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে মো: নজরুল ইসলাম নামে সাবেক এক যুবলীগ নেতা জানতে পারেন তিনিও আর বেঁচে নেই।
তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন উপজেলা নির্বাচন অফিস।
প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার, শাহ্ জালাল হাওলাদার ও নজরুল ছাড়াও বেঁচে থেকে সরকারি হিসেবে মৃত হওয়ায় বিপাকে আছেন এমন আট থেকে ১০ জন। জীবিত থাকার পরও এমন বিস্ময়কর ঘটনায় হতবাক তারা।
প্রতিনিয়ত নিজেকে জীবিত প্রমাণে ঘুরছেন নির্বাচন অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরে। জীবিত থাকার পরও মৃত হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বঞ্চিত হচ্ছেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও। অনেকে সরকারি বেতন বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপনও করছেন। তবে অনেক মৃত ভোটারের সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন না উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা এসব ভোটারদের সম্পর্কে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে ভোটার তথ্য হালনাগাদের সময় ভুল তথ্য দিয়ে ওইসব ব্যক্তির মৃত দেখান তথ্য সংগ্রহকারীরা। আর তাতে যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বাক্ষর করে দেন ভোটার তথ্য হালনাগাদের দায়িত্বে থাকা শনাক্তকারী ও সুপারভাইজাররা।
ভোটার তালিকায় মৃত হওয়া মো: শাহ্ জালাল হাওলাদার জানান, ভোটার তথ্য হালনাগাদের সময় ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ভোটার তালিকায় আমি মৃত হওয়ায় করোনার টিকা পর্যন্ত নিতে পারছি না। ঋণও নিতে পারছি না। বঞ্চিত হচ্ছি রাষ্ট্রের নানা সেবা থেকে।
তিনি আরো জানান, তার মতো এমন অনেকেই জীবিত থেকেও মৃত হিসেবে তালিকায় রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান জানান,উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধ থাকায় তথ্য দেয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আট থেকে ১০ জন ব্যক্তি আবেদন করেছেন ভোটার তালিকায় মৃত থেকে জীবিত হওয়ার জন্য। আবেদনগুলো সংশোধনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।






