নারায়ণগঞ্জের ‘মাসদাইর সিটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়েছে’ এমন অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। এমনকি তার স্বজন ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর ওই মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার গণমাধ্যমে কথা বলেছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। মেয়র আইভী গণমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন।

মেয়র লিখিত বক্তব্যে বলেন, সোমবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান সাহেব তার মা-বাবাসহ স্বজনদের কবর জিয়ারত শেষে অভিযোগ করেন যে, তার স্বজনদের কবর শ্মশানের মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এটা ইবলিশের কাজ।

কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের স্বজনদের কবরে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়নি। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের কবর অপেক্ষাকৃত নিচু। সেখানে পানি জমে থাকার আশঙ্কা করে পারভীন ওসমান তাদের পারিবারিক আত্মীয় জনৈক নাসিরকে মাটি ফেলার জন্য পাঠায়। নাসির বাইরে থেকে মাটি এনে শামীম ওসমানের ভাইসহ স্বজনদের কবর ভরাট করেন। এ কাজে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃক নিযুক্ত কেয়ারটেকার সামসুদ্দিন সহযোগিতা করেছেন মাত্র।

আইভী আরো বলেন, এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নাসির যে মাটি দিয়ে কবরস্থান ভরাট করেছে, তার রং সাদা। কিন্তু শ্মশানের পুকুরের মাটির রং লাল। উপরোক্ত সত্যকে আড়াল করে সংসদ সদস্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের হীন উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আগেও একটি প্রভাবশালী মহল হেফাজতে ইসলামের মাধ্যমে একই ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে, যা নারায়ণগঞ্জবাসী অবগত রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় পাশাপাশি চারটি ধর্মের অনুসারীদের দাফন/শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। যা সারা বিশ্বে বিরল এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাক্ষর বহন করে।

আইভী আরো বলেন, এখানে উল্লেখ্য যে, কবরস্থান ও শ্মশানের জন্য বিশাল এ ভূমি দান করেছেন শ্রী হরকান্ত ব্যানার্জী, পরে সময়ের প্রয়োজনে এর আয়তন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী সবসময় সত্য আর ন্যায়কে সমর্থন করেছেন। আজকেও আমি আবারো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে মিথ্যা, অপপ্রচার, অন্যায়কে রুখে দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।