বুড়িগঙ্গার পোস্তগোলা এলাকায় নদীতে ঝাঁপ দেয়া সেই কিশোরী বধূর লাশ ফতুল্লা থেকে উদ্ধার করেছে পাগলা কোস্টগার্ড। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাগলা তালতলা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী স্থান থেকে মালা আক্তার নামে ওই কিশোরীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মালা আক্তার (১৭) যাত্রাবাড়ীর মিরহারাজীবাগ এলাকার নূর নবীর একমাত্র মেয়ে। স্বামীর সাথে ঝড়গা করে বৃহস্পতিবার রাতে নদীতে ঝাঁপ দেয় মালা।
পাগলা কোস্টগার্ড সদস্যরা জানান, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মালার পরিবারের অনুরোধে লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।
কিশোরী মালার চাচা নুরুজ্জামান জানান, মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়তো। এক বছর আগে মিরহাজারীবাগ এলাকার ইঞ্জিনিয়ার গলির মতিউর রহমান মোল্লার ছেলে মজিবুর রহমানের (২০) সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে মালা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি চলছে। কারণে-অকারণে প্রায় সময় মালার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মালা বাবার বাড়ি চলে আসতো প্রায় সময়। পরে মজিবুর এসে জোর করে তার বাড়িতে নিয়ে যেত।
তিনি আরো জানান, গত ১১ আগস্টও মালাকে মারধর করলে সে বাবার বাড়ি চলে আসে। ওই দিনই সন্ধ্যার পর মজিবুর এসে মালাকে তার বাবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মালা নিখোঁজ ছিল। তখন সন্দেহ হলে মজিবুরকে আটক করে স্থানীয় থানা পুলিশে হস্থান্তর করা হয়। আটকের পর মজিবুর জানিয়েছে, মালা পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েছে।
চাচা নুরুজ্জামান বলেন, ‘কিন্তু মালার লাশে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে, তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এ বিষয়ে আটক মজিবুরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করব।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ গিয়েছিল। লাশটি নদীতে পাওয়া গেছে। নদীর বিষয়টি নৌ-পুলিশের আওতাধীন। তাই বিষয়টি নৌ-পুলিশ (পাগলা ইউনিট) তদন্ত করছে।






