ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে ১৫শিক্ষকসহ এক ট্রলার দুর্ঘটনায় দু’শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন। বুধবার সন্ধ্যার একটু আগে সিএন্ডবি ঘাটের পন্টুনের সাথে সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে অনেকে সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও দু’জনকে পাওয়া যায়নি। ফরিদপুরে পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দেখতে ওই শিক্ষাকরা ট্রলার যাত্রার এ উদ্য্যোগ নেন।

ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা সন্ধ্যা থেকে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন ।

এ বিষয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা সুভাষ বাড়ৈ বলেন, সন্ধা ৬ টা ২৫ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে তারা উদ্ধার অভিযানে নামেন। ঘটনাস্থল থেকে দু’কিলোমিটার পর্যন্ত বুধবার থেকেই ট্রলার নিয়ে খোঁজ চালান তারা। তবে নদীর তীব্র স্রোত, রাতের অন্ধকার ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের। এছাড়া, সকালে পাটুরিয়া ঘাট থেকে ডুবুরিরা এলে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

জানা গেছে, ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়, ঈশান বালিকা বিদ্যালয় ও ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলা সদরের পাঁচ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষক খলিল মণ্ডলের হাট থেকে একটি ট্রলারে করে বিভিন্ন স্থান ঘুরে সিএন্ডবি ঘাটে যাত্রাবিরতি করেন। এরপর ট্রলারটি সেখান থেকে আবার খলিলমণ্ডলের হাটে যাওয়ার সময় ঘাটের পন্টুনের সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই সময় মাঝিসহ ট্রলারে ১৫ যাত্রী ছিলেন।

সারদা সুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, খলিল মণ্ডলের হাট থেকে ট্রলারটি চরাঞ্চল ঘুরে সিএন্ডবি ঘাট ইয়ার্ডের নিকট পৌছে বিকালে। এরপর সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে ৬টার দিকে খলিলমণ্ডলের হাটে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আমরা পানিতে পড়ে যাই। এরপর তীব্র স্রোতে ভেসে আমারা পদ্মা নদীর মাঝে চলে যাই। পরে আমরা সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও দু'জন শিক্ষক নিখোঁজ হন। নিখোঁজ ওই দু'জন হলেন, সারদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক আজমল হোসেন (৪৩) ও ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন (৪০)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ফরিদপুরে তাদের কোনো ডুবুরি নেই। ডুবুরিদের পাটুরিয়া ঘাট হতে আসতে হয়। তবে রাতের বেলায় তাদের আসা সম্ভব ছিলনা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে এসে ডুবুরীরা কাজ শুরু করেছেন।