আগুনে হতাহতের প্রায় এক বছরের মাথায় নারায়ণগঞ্জের তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদ খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মসজিদে এশার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ আগুনে ৩৪ জন নিহত হয়। ছয়টি শর্ত পূরণ করে মসজিদটিতে আবার নামাজ আদায় করা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।
রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো: আব্দুল গফুরের কাছে মসজিদটি ব্যবহারের অনুমতিপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।
মসজিদটি ব্যবহারের জন্যে কমিটিকে অনুমতিপত্রে লিখিতভাবে ছয়টি শর্ত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শর্তগুলো হলো-
মসজিদে একাধিক দরজা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আপাতত মসজিদটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিদ্যুতের প্যানেল বোর্ড মসজিদ ভবনের বাইরে অথবা বারান্দায় বসাতে হবে।
প্রতি তিন মাস পর পর অনুমোদিত প্রকৌশলী, এবিসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান দ্বারা পরীক্ষা করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক মসজিদের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
মসজিদের নিচে বা পাশে গ্যাস লাইন নেই অথবা গ্যাস লাইন সঠিক আছে মর্মে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিশ্চিত করতে হবে।
মসজিদের প্রতিটি তলায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে মনিটরিং করাসহ এসব শর্তাবলি পালন নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মসজিদ খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের চিঠি চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এই বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করেছেন। পরিপ্রেক্ষিতে মসজিদ খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মসজিদ সংস্কার করে যেকোনো সময় মুসল্লিরা নামাজের আয়োজন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে মুসল্লিসহ ৩৪ জনের নিহত হয়।
এ ঘটনায় তিতাস গ্যাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তদন্ত সংস্থা সিআইডি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাসহ আটজন, ডিপিডিসির মিটার রিডারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়।






