বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। এসব দুর্ঘটনায় অনেকই কর্মক্ষমতা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেউ হারিয়েছেন হাত, কেউ পা, তারা এখন নিজ নিজ পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
শেরপুর উপজেলার গত সাড়ে তিন বছরে ৮৪৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩০৪ জন এবং নিহত হয়েছে ৯৪ জন। শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদন জানুয়ারি ২০১৮ সাল থেকে জুন ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যলায় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বিশেষ করে শেরপুর উপজেলার ঘোগাবটতলা, ছোনকা বাজার, রানীরহাট মোড়, মির্জাপুর বাজার, শেরুয়া বটতলা, হামছায়াপুর, ধুনটমোড়, হাসপাতালরোড, বাসস্ট্যান্ড, কলেজরোড, মহিপুর বাজার, গাড়ীদহ মহাসড়কের এই পয়েন্ট বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২০১৮ সালে ২৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩৬৯ জন আহত ও ২৫ জন নিহত, ২০১৯ সালে ২৮৫টি দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন আহত ও ২৫ জন নিহত, ২০২০ সালে ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩১৬ জন আহত ও ২৬ জন নিহত এবং ২০২১ সালে ৬ মাসে ৮৫টি দুর্ঘটনায় ১১০ জন আহত ও ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীরা বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে রয়েছে চালকের আসনে হেলপার, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, যানবাহনে অতি পণ্য বা যাত্রী বহন, সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার ও ফুটপাত দখলে থাকা। এগুলোর সমাধান হলেই সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলে আমরা আশাবাদি।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সাব অফিসার সিদ্দিকুর রহমান জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা পরেও মহাসড়কগুলোতে ইজি বাইক, সিএনজি, নছিমন, করিমন ও ভটভটি অবাধে চলছেই। এই চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর নাদির হোসেন বলেন, আমাদের প্রতিবেদনের বেশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে। করণ অনেক দুর্ঘটনার খবর পাই না। এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতলে চিকিৎসা নেয়া অনেক রোগী মারা যায়। সে তথ্য আমাদের কাছে থাকে না।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এ কে এম বানিউল আনাম জানান, দুর্ঘটনা বাড়ার কারণ হলো চালকের আসনে হেলপার, বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং, যানবাহনে অতি পণ্য বা যাত্রী বহন। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।






