নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পর্যটক মুখর এলাকা কাশবন রাজ্যখ্যাত ভাটিবন্দর কাশবনে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
আগুনে কাশবন কেনা মালিক ও শ্রমিকদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর ও কান্দারগাঁও এলাকার কাশবনটি প্রতিবছরের মতো এবারও কিনে নেন ভোলার জাহাঙ্গীর সরদার। তারা কাশবন কেটে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন। এ কাশগাছ বিভিন্ন পানের বরজের মাচায় ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করতে কিনে নেন। জাহাঙ্গীর সরদার দেড় লাখ টাকায় কাশবনের একাংশ ক্রয় করে ১৮ জন শ্রমিক দিয়ে ১৪ দিন ধরে কেটে শুকাচ্ছিলেন।
এর মধ্যে সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত কাশবনে আগুন
ধরিয়ে দিলে নিমিষেই তাদের কেটে রাখা কাশসহ পুরো বন আগুন ধরে যায়। পরে শ্রমিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
কাশবন কাটতে আসা শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় কান্দারগাঁও এলাকার চেয়ারম্যানপ্রার্থী গণসংযোগ করতে যাওয়ার সময় তার সাথে থাকা একদল যুবক কাশবনে আগুন দিয়েছে। শ্রমিকরা বাধা দিলে তাদের মারধর করে চলে যায় তারা।
দুর্বৃত্তদের নাম না জানলেও তাদের দেখলে চিনতে পারবে বলেও জানান শ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যার পর এলাকায় প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখে তারা কাশবনের কাছে যায়। ততক্ষণে শ্রমিকরা আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এ কাশবনটির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সপরিবারে অনেক মানুষ আসে। এলাকাটি এখন পর্যটক মুখর। এলাকাকে সবাই কাশবনের রাজ্য বলে চিনে। ফলে আগুনে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তার অভাবে এলাকায় পর্যটক আসা কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছে, কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসায় আসায় এলাকায় ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হন। কিন্তু আগুন দেয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও এখন অনেকটা কমে যাবে বলে তাদের ধারণা।
কাশবনের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় তারা ভোলা থেকে এসে এখানে কাজ করছেন। ১৪ দিনে তাদের খোরাকি ছাড়া কিছুই পাননি। আগুন দিয়ে মহাজনের যে ক্ষতি করেছে, এতে তাদের পরিশ্রমের টাকা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
সম্প্রতি উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবতী কান্দারগাঁও, ভবনাথপুর ও ভাটিবন্দর এলাকার ইউনিক গ্রুপের বালুর মাঠে বড় একটি কাশবন সৃষ্টি হয়। এ বছর ব্যাপকহারে কাশবন
হওয়ার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা ভাইরাল হয়। এর ফলে পুরো উপজেলার প্রকৃতিপ্রেমীরা সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন। শুক্রবারসহ ছুটির দিনগুলোতে হাজারো দর্শানার্থীর ঢল নামতো এখানে।






