কুমিল্লার চান্দিনায় কিশোরীকে গলাকেটে হত্যার তিন দিন পর বাবা সোলেমান ব্যাপারীকেও গলাকেটে হত্যাচেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার ভোরে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে সোলেমান ব্যাপারীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
আহত সোলেমান ব্যাপারী (৪৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মেয়ে সালমা আক্তার হত্যা মামলার বাদী। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দিনার বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারী ও তার ভাতিজাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার ভাতিজারা সোলেমান ব্যাপারীর স্ত্রীকে মারধর করায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর ১ অক্টোবর রাতে সোলেমানের মেয়ে সালমাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা সোলেমান ১০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ দিকে সোমবার সন্ধ্যা থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবার। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে আহত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামের লোকজন।
সোলেমান ব্যাপারীর বড় মেয়ে এলমা আক্তার বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের ইউনুছের দোকানে যাওয়ার পর থেকে আব্বাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মোবাইলে কল দিয়েও বন্ধ পাই। পরে আমরা থানায় খবর দেই। পুলিশ এসেও বিভিন্ন স্থানে খুঁজে না পেয়ে চলে যায়। মঙ্গলবার ভোরে গ্রামের এক লোক জমিতে কাজ করতে যাওয়ার পথে বাড়ির পাশের একটি বাগানে আব্বার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় কাটা অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেন।
সালমা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন দত্ত জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাদী সোলেমানকে নিয়ে থানায় হাজির হতে ওয়ার্ড মেম্বার ইসমাইল হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর মেম্বার জানান, সোলেমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে সোলেমানের পরিবার থানাকে অবহিত করলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েও তাকে খুঁজে পাইনি।
গল্লাই ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, আহতকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এর আগে তার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।






