চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার একমাত্র সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ১১ নভেম্বর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছিল। তবে নির্বাচনোত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিজয়ী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের বাড়ী এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসিনদের কূটকৌশলে পরিকল্পিত ভাবে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিজয়ী প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু নির্বাচনের পরের দিন থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছে। একই ভাবে ডাবলুর নেতৃত্বে শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত দুই দফায় আমার কর্মীদের বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙ্চুর করেছে। তারা ইতোমধ্যেই দুই দফা হামলা চালিয়ে আমার কর্মী ডা: রায়হান উদ্দিন, মিল্টন, লালন ও হাসেমদেরকে মারপিট করেছে।
হামলার শিকার হাবিবপুর পল্লী চিকিৎসক রায়হান উদ্দিন বলেন, আমরা পরাজিত মেম্বার প্রার্থী সাবেক মেম্বার কাদেরের পক্ষে কাজ করেছি। এই অপরাধে বিজয়ী প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থক অতিয়ার, শরাফ, নাজমুল, মমিন, আসাদার, সুমারুল, রিপন, মোশারেফ, আজান ও অহিদুলসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জন শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার সময় হাতে লাঠিসোটা নিয়ে আমার ফার্মেসিতে হামলা চালায় এবং ভাঙ্চুর করে।
তিনি বলেন, এ সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে আমাদেরকে গ্রাম ছাড়া করবে এবং দশ লাখ টাকা খরচ হলেও রায়হানকে খুন করা হবে। পরে তারা মিল্টনের বাড়ীতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাবে ভাঙ্চুর ও লুটপাট করে। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ না এলে তারা আরো হামলা করত।
হামলার শিকার মিল্টন হোসেন বলেন, রায়হান ডাক্তারের ফার্মেসিতে হামলার সময় সেখানে থাকা আমার মোটরসাইকেলটি হামলাকারিরা ভাঙ্চুর করে। পরে রাত ১১টার সময় হামলাকারিরা আমার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এই ঘটনায় দশজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দেয়া হয়েছে।
সদ্য নির্বাচিত মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু পল্লী চিকিৎসক রায়হান উদ্দিনের ফার্মেসিতে হামলার কথা আংশিক স্বীকার করলেও মিল্টনের বাড়ীতে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগেই আমি তা শান্ত করেছি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনার পর পরই আমি অফিসার-ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত কার্যক্রম চলছে।






