হাইকোর্টের আদেশ থাকলেও তা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর এলাকার হাতুন্ডা গ্রামে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানী লিমিটেডের সাথে হাতুন্ডা গ্রামের মীর নেওয়াজ মোর্শেদের জমিতে একটি মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের চুক্তি হয়। পরে একই গ্রামের হাজী মো. কুদ্দুছ চৌধুরীর ছেলে কাউন্সিলর মারুফ চৌধুরীর উদ্যোগে চুনারুঘাট পৌরসভার পক্ষ থেকে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মীর নেওয়াজ মোর্শেদের জমিতে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়ে কাউন্সিলর মারুফ চৌধুরী তার নিজের জমিতে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের চুক্তি করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই মোবাইল টাওয়ার নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য এলাকাবাসী পৌর মেয়র এবং চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কয়েক দফা লিখিত আবেদন করেন। মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনার জেরে গত ২২ ডিসেম্বর চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আশরাফ আদালতের আদেশ দেখিয়ে টাওয়ার নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন।
কিন্তু ৯ ডিসেম্বর পৌর মেয়রের একটি অনুমোদনপত্র দেখিয়ে নির্মাণ কাজ আবার শুরু করেন কাউন্সিলর মারুফ।
তবে মেয়রের অনুমোদনপত্রের ১১ নং শর্তে উল্লেখ করা হয়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার নির্মাণে উচ্চ আদালতের কোন আদেশ থাকলে তার অনুমোদনপত্রটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
পৌর মেয়র মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমার অনুমোদনে শর্ত আরোপ আছে। শর্ত অনুযায়ী আদালত বা উচ্চ আদালতের কোনো আদেশ থাকলে অনুমোদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে ১১ দফা নির্দেশনা সম্বলিত একটি রায় প্রকাশ করেন। রায়ের ২য় নির্দেশনায় হাইকোর্ট ‘মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার, খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাসহ ইত্যাদি স্থানে না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণ করার’ আদেশ দেন।






