পাবনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানসহ তিনজনকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন। পাবনা জেলা ও দায়রা জজের কৌসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারাগারে পাঠানো চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান (৫২) জেলার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ গ্রামের মরহুম হাচেন খাঁর ছেলে এবং ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি ছাড়াও গ্রেফতার হওয়া বাকি দু’জন হলেন, বিজয়রামপুর গ্রামের মহির বিশ্বাসের ছেলে নাদের বিশ্বাস (৫৩) ও নলদহ গ্রামের জেলেমুদ্দিনের ছেলে সমো (৩১)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম হত্যা মামলায় বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদসহ ৩৪ আসামির মধ্যে সোমবার পাঁচজন জেলা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পন করেন। এ সময় বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং বাকি দুইজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
যাদের জামিন মঞ্জুর কারা হয়, তারা হলেন- ভাঁড়ারা ইউপির দিঘলকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলম (৩৩) ও চকভাড়ারা গ্রামের মরহুম রানু শেখের ছেলে শামসুল হোসেন (৪০)। এই মামলার বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চতুর্থ ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যার কারণে ভাঁড়ারা ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১১ ডিসেম্বর সকালে কোলাদি গ্রামের চারাবটতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী (ঘোড়া মার্কা) সুলতান মাহমুদের ১৫-২০ জন সমর্থক ভোটের প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের লোকজনের সাথে সুলতান মাহমুদের সমর্থকদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এতে সুলতান মাহমুদের চাচাতো ভাই ইয়াসিন আলমসহ দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হন। ইয়াসিন আলমও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ইয়াসিন আলমকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পরের দিন ১২ ডিসেম্বর রাতে নিহত ইয়াসিন আলমের পিতা মোজাম্মেল হক ৩৪ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দিনই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ইউনিয়নের সব পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।






