বাংলাদেশকে পাত্তাই দিলো না শ্রীলঙ্কা। হেসেখেলে অনায়াসেই পৌঁছেছে লক্ষ্যে, ৩২ বল হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে জয়। সব মিলিয়ে ব্যাটে-বলে খারাপ একটা দিন পার করলো লিটন দাসের দল।
ব্যাট হাতে রান আসেনি, সেই ব্যর্থতা বল হাতে আড়াল করতে পারতেন বোলাররাই। তবে তারাও পারেননি, ফিল্ডাররা পারতে দেননি। বল হাত ফসকেছে বারবার, সুযোগ হয়েছে হাতছাড়া।
এত এত ব্যর্থতার ফল যা হতে পারে তাই হয়েছে। ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের দেয়া ১৪০ রানের লক্ষ্য ১৪.৪ ওভারেই পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বড় জয়ে এশিয়া কাপে করল শুভসূচনা।
শেষ দিকে বাংলাদেশ কিছু উইকেট দ্রুত তুলে নিলো বটে, তবে তা কেবল বাড়িয়েছে আক্ষেপ। অন্যদিকে এই হারে শেষ চারে ওঠার সমীকরণ কঠিন হলো লিটনদের। শেষ ম্যাচে আফগানদের হারাতেই হবে বড় ব্যবধানে।
অল্প রানের পুঁজি। লড়াই করতে হলে তাই প্রথম ওভার থেকেই চেপে ধরতে হতো শ্রীলঙ্কাকে। ১.৫ ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে তেমনই কিছুর আভাস দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে সে পর্যন্তই।
মোস্তাফিজের বলে দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুশল মেন্ডিস (৩)। এরপরও কিছুক্ষণ লঙ্কানদের চেপে ধরে রাখে বাংলাদেশ। এর মাঝে পঞ্চম ওভারে একটা সুযোগও পায় টাইগাররা।
শরিফুল ইসলামের বলে বল তুলে দিয়েছিলেন কামিল মিশ্রা। তবে শেখ মেহেদী সহজ ক্যাচটা নিতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে জীবন পেয়ে সেই ওভারেই নেন ১৮ রান। এরপর থেকে চলছেই তার ব্যাট।
অন্যপ্রান্ত থেকে পাথুম নিশানকাও পাল্টা আঘাত করেন। সব মিলিয়ে পাওয়ার প্লেতেই আসে ৫৫ রান। এরপরও কমেনি আগ্রাসন। ৮ ওভার শেষে স্কোর ৮৪/১। ১০ ওভারেই স্পর্শ করে তিন অঙ্ক।
এর মাঝে ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন পাথুম নিশানকা। তবে এরপর আর ইনিংস বড় হয়নি, শেখ মেহেদীর বলে ফেরেন ৩৪ বলে ৫০ করে। চারে নামা কুশল পেরেরাকেও (৯) ফেরান মেহেদী।
আর পাঁচে আসা দাসুন শানাকাকে (১) থিতু হতে দেননি তানজিম সাকিব। দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিলেও ম্যাচে ফেরার আর সম্ভাবনা ছিল না। আর সুযোগও দেননি কামিল মিশ্রা ও চারিথ আসালাঙ্কা।
কামিল ৩২ বলে ৪৬ ও চারিথ অপরাজিত থাকেন ৪ বলে ১০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ২৯ রানে ২ উইকেট নেন শেখ মেহেদী।
এর আগে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবুধাবিতে শুরুটাই হয় বিদঘুটে। দুই ওভার শেষে কোনো রান যোগ না করতেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। ফেরেন দুই ওপেনারই। খেলা শুরুর আগেই যেন ব্যাকফুটে চলে গেল টাইগাররা।
প্রথম ওভারে নুয়ান থুসারার ওভারে কোনো রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ, উল্টো শেষ বলে উইকেট দিয়ে ফিরেছেন তানজিদ তামিম। সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগে পরবর্তী ওভারেই ফেরেন পারভেজ ইমন।
তিনিও খুলতে পারেননি রানের খাতা। দ্বিতীয় ওভারে চামিরার ৪ বল খেলে ফেরেন কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে। এই ওভারেও আসেনি রান। দুই ওভার শেষে স্কোর ০/২!
২.২ ওভারে এসে অবশেষে রানের খাতা খোলে বাংলাদেশ। রান নিয়ে খাতা খুলেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। উইকেটে তার সাথে ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তবে তিনিও টিকতে পারেননি।
দলের বিপদ বাড়িয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন ৪.৩ ওভারে দলীয় ১১ রানে। হৃদয়ের ইনিংস শেষ হয় ৯ বলে ৮ রানে। এদিকে এমন বাজে শুরুর পর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এমতাবস্থায় ৬ষ্ঠ ওভারে তিনটা চার হাঁকিয়ে কিছুটা চাপমুক্ত করেন লিটন দাস। তবে স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি; ৭.২ ওভারে ফেরেন শেখ মেহেদীও (৯)। চারে প্রমোশন পেয়ে আস্থা রাখতে পারেননি।
৭.২ ওভারে মেহেদীকে হারানোর পর পরই ফিরতে পারতেন লিটন। তবে এলবিডব্লুর আবেদন হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তবে পাওয়া জীবনটা বেশিদূর টানতে পারেননি।
৯.৫ ওভারে হাসারাঙ্গার শিকার লিটন দাস। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৬ বলে ২৮ করে। তাতে ৫৭ রানে ৫ম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। এরপরেই হাল ধরেন শামীম-জাকের।
শামীম-জাকেরের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মান বাঁচানো একটা পুঁজির দিকে ছুটতে থাকে দল। ১৬ ওভারে পৌঁছায় তিন অঙ্কের ঘরে। তবে এরপর প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি তারাও।
শেষ চার ওভারে ৩৯ রান আসলেও, দুজনে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন তা দৃষ্টিকটু। আরেকটু ব্যাট চালানো যেতো কিনা, সেই প্রশ্ন করাই যায়। শামীম ৩৪ বলে ৪২* ও জাকের সমান বলে করেন ৪১* রান।
তাদের জুটিতে আসে ৫১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৩ রান। বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে পৌঁছায় ১৩৯ রানে। হাসারাঙ্গা ২৫ রানে নেন ২ উইকেট।






