আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশক পার করে ফেলেছেন লিটন দাস। তবে এতোটা ধারাবাহিক তাকে দেখা যায়নি আগে কখনো। দেখা মেলেনি এতোটা দায়িত্বশীলতার। অধিনায়ক লিটনে এখন নির্ভার বাংলাদেশ।

অথচ টি-টোয়েন্টিতে রানে ছিলেন না অনেকদিন, শেষ ১৮ ইনিংসে ছিল মাত্র ১ ফিফটি। তবে দল ভালো করায় অধিনায়ক লিটন খুব একটা প্রশ্নবিদ্ধ হননি। দলের ওপর ভর করে বেঁচে যান, আড়ালে পড়ে যায় তার ব্যর্থতা।

তবে অবশেষে গত নেদারল্যান্ডস সিরিজে ঘুম ভাঙে লিটনের, দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটে তার। তিন ম্যাচ সিরিজে হাঁকান জোড়া ফিফটি। জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও। এশিয়া কাপের আগে দল পায় ভরসা।

সেই ভরসার প্রতিদান লিটন দিয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। হংকংয়ের বিপক্ষে গতরাতেই খেলেছেন অধিনায়কোচিত এক ইনিংস। বৃহস্পতিবার দলের ৭ উইকেটের জয়ে তার ব্যাটে আসে ৩৯ বলে ৫৯ রান।

ইনিংস খেলার পথে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটারও বনে গেছেন তিনি। বনে গেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও।

দলের জয় নিশ্চিত করার পথে গতরাতে ৬টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান লিটন। তাতেই মাহমুদউল্লাহকে টপকে যান তিনি। কাল ম্যাচে নামার আগে দুজনের ছক্কা ছিল সমান ৭৭টি।

১১১তম ম্যাচ খেলতে নেমে লিটন ৭৮ ছক্কা হাঁকিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন। মাহমুদউল্লাহ তার ৭৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে ছিলেন ১৪১ ম্যাচে। অর্থাৎ ৩০ ইনিংস কম খেলেই মাহমুদউল্লাহকে পেরিয়ে গেছেন লিটন।

শুধু তাই নয়, টাইগারদের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানসংগ্রাহকের তালিকায়ও দুই নম্বরে উঠেছেন লিটন। এদিক থেকেও তিনি টপকে গেছেন মাহমুদউল্লাহকে। এখন তার রান ২৪৯৬।

১২৭ ইনিংসে ২৫৫১ রান করে সাকিব আল হাসান এখন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক। অর্থাৎ আর মাত্র ৫৬ রান করলেই সাকিবকে টপকে দেশের হয়ে শীর্ষ রান সংগ্রকারী বনে যাবেন তিনি।

অবশ্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ফিফটি করার রেকর্ডে সাকিবকে আগেই পেরিয়ে গেছেন লিটন। নেদারল্যান্ডসের সাথে শেষ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন ১৪তম ফিফটি।

হংকংয়ের সাথে ফিফটি করে সেই রেকর্ড আরো সমৃদ্ধ করলেন লিটন (১৫)। সাকিবের ফিফটি ছিল ১৩টি। বর্তমানে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মাঝে তার ধারেকাছেও নেই কেউ। তানজিদ তামিমের ফিফটি ৬টি।

তবে ফিফটি করে আরো একটা রেকর্ড গড়েছেন লিটন, অধিনায়ক হিসেবে দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ (৪) ফিফটিও এখন তার। নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় ৩টি ফিফটি করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ন্যূনতম ৮০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মাঝে তার স্ট্রাইক রেটই এখন (১২৬.২৩) সবচেয়ে বেশি।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার দিক থেকেও লিটন এখন দুইয়ে আছেন। ২০১৬ আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮০ রান করেন সাব্বির রহমান, লিটন খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস।

শুধু তাই নয়, লক্ষ্য তাড়ায় লিটন-হৃদয় মিলে গতকাল গড়েন ৯৫ রানের জুটি। যা এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। ২০১৬ আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব ও সাব্বির।

এদিকে ম্যাচ শেষে লিটনের হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার পঞ্চম ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এই সংস্করণে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচসেরা হবার কীর্তি গড়লেন তিনি।

সমান পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তবে এই রেকর্ডে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাঝে সবার ওপরে সাকিব আল হাসান। দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১২ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।