নিজস্ব প্রতিবেদক 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। 
সন্ত্রাসী কর্মে জড়িতদের কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়, তদন্তে জড়িত প্রমাণ মিললেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে সারা দেশে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরো জোরদার করা হবে। 
সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় পুলিশ এক কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলা পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং মাটিকাটায় জমি দখলের ঘটনায় ৯৯৯-এ কল পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করেছে। অপরাধের সাথে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নির্মোহভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
মিরপুরে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানকালে সংঘর্ষ ও পুলিশ ভ্যান ভাঙচুরের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে সঠিক যোগাযোগের অভাব বা সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটা ঘটেছে, যার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিশেষে, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বেকার অন্তর্বর্তী সরকার দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি একদিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করেছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি আরো একদিন বাড়িয়ে তিন দিন নির্ধারণ করেছেন। এর সাথে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসী কার্যত পাঁচ দিনের ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে প্রতি বছর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রদানকৃত সরকারি অনুদানের পরিমাণ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করেছেন। সরকারের এসব সিদ্ধান্তের জন্য সনাতন ধর্মের নেতারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 
দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৪ হাজার পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১,৫০০টি বেশি। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তি ও তদারকি জোরদার করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপসটি দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানায় ভেরিফিকেশন শেষে আইডি কার্ড দেয়া হবে। পুজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২৪ ঘণ্টা বিকল্প জেনারেটর ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান প্রধান সংগঠন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা ফ্রন্টসহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) উপস্থিত ছিলেন।