২০১৪ সালের মতো এবারো খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে নিতে না পারায় আওয়ামী লীগ সরকার এবার সন্ত্রাস, হামলা, হুমকি, গায়ের জোর, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শক্তি সবকিছুকে ব্যবহার করে ‘ভোটের আগেই জয়লাভ করার’ আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি আরো বলেন। তিনি ‘নিজের ভোট নিজে পাহারা’ দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকারের নীলনকশা বানচাল করার আহ্বান জানান।
ভিডিওবার্তায় সেলিম আরো বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারের ১০ বছরের দুঃশাসনের ফলে সে আজ জনসমর্থন হারিয়েছে। কিন্তু আরো এক দফা ক্ষমতায় থাকার জন্য সে মরিয়া। ২০১৪ সালের মতো এবারো খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে নিতে না পারায় সে এবার সন্ত্রাস, হামলা, হুমকি, গায়ের জোর, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শক্তি সবকিছুকে ব্যবহার করে ‘ভোটের আগেই জয়লাভ করার’ আয়োজন করেছে। এ কাজে সে সফল হলে আগামী পার্লামেন্ট হয়ে উঠবে ‘ভুয়া প্রতিনিধিদের’ পার্লামেন্ট।
ফলে গণতন্ত্র আরো বিপন্ন হবে এবং দেশে স্বৈরতান্ত্রিক-এনায়কত্ববাদী-ফ্যাসিবাদী বিপদ বাড়বে। এটি হতে দেয়া যায় না। কেবল জনগণের শক্তিই সরকারের এই ‘খেলা’ বন্ধ করতে পারে। ‘নিজের ভোট নিজে পাহারা’ দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে সরকারের এই নীলনকশা বানচাল করা সম্ভব হবে। ভিডিও বার্তায় তিনি দেশবাসীকে আহবান জানিয়ে বলেন, ভোটাধিকার রক্ষায় সমবেতভাবে ও সাহসের সাথে এগিয়ে আসুন। সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
সেলিম বলেন, দেশ আজ লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের কবলে। কিন্তু এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। দেশ পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে। ‘কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না’-এই নীতির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার নীতির আলোকে দেশ চলবে, এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও আপামর জনগণের স্বপ্ন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নিম্ন বিত্ত জনগণ যে ধরনের বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল, তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। সেই স্বপ্নই হলো আমাদের ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় এই ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ নবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়াই আজ জাতির সামনে মৌলিক কর্তব্য। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এমনকি, এই দু’টি দল ও তাদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো দেশে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক স্বপ্নতো দূরের কথা, বুর্জোয়া ধারার গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা ক্রমান্বয়ে আরো কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের ধারার বিপরীতে দেশে লুটপাটতন্ত্রের ধারা শক্তিশালী করেছে।
ভিডিওবার্তায় সিপিবির আহ্বান সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘কাস্তে’ মার্কায় সিপিবির মনোনীত প্রার্থীদেরকে এবং ‘মই’ ও ‘কোদাল’ মার্কায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন।






