আগামী ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকা দান কর্মসূচী। তিন সপ্তাহব্যাপী সারা দেশের ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।
মন্ত্রী প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন বলেন, ২০০৬, ২০১০ সালে হাম টিকাদান কর্মসূচী এবং ২০১৪ সালে দেশে হাম-রুবেলা কর্মসূচী পরিচালিত হয় এবং এর ফলে হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বহুলাংশে কমে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আবার দেশে হাম-রুবেলার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে দেশে ৮২টি হাম-রুবেলার রোগী পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে প্রতি দশ লাখে হাম রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১.৬ জন যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.১ জনে। এছাড়াও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পরও এমআর ১ম ডোজ টিকার ক্ষেত্রে ৫%-১৫% এবং ২য় ডোজ টিকার ক্ষেত্রে ১৫%-২০% শিশু টিকাদানের বাইরে তথা অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এভাবে ৪-৫ বছরের মোট অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা বার্ষিক জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যার সমান বা বেশি হয়ে যায় ফলে রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।
মন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পেইনটি দুইভাগে পরিচালিত হবে। ১৮ থেকে ২৪ মার্চ ক্যাম্পেইনের প্রথম সপ্তাহে সারা দেশের এক লাখ ৭৩ হাজার ২৮৯টি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী বা সমমানের ছাত্র-ছাত্রীদের এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে।
২৮ থেকে ১১ এপ্রিল ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৪৪৪টি নিয়মিত, স্থায়ী ও অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে যায় না এমন বা প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়ে টিকা গ্রহণ করেনি তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিতে থাকা শিশু অর্থাৎ দোকান বা বাজার, কারখানা, রাইস মিল ইত্যাদিতে কর্মরত মায়েদের শিশু, বেদে বহরের শিশু, সুবিধাবঞ্চিত শিশু যারা রেল-বাস স্টেশনে ঘুমায়, হাসপাতালে ভর্তি বা মায়েদের সাথে অবস্থানরত শিশু, জেলখানায় মায়েদের সাথে অবস্থানরত শিশু, পতিতালয়ের শিশু, বস্তির শিশু ও দুর্গম এলাকার শিশুদের টিকা প্রদানের জন্য সেসব এলাকায় আলাদা টিকাকেন্দ্র পরিচালিত হবে।
কর্মসূচি শুরুর দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত টিকাদান কেন্দ্রসমূহে সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
মোট ৫৩ হাজার ১৪৪ জন টিকাদানকারী টিকা দেবেন। চার লাখ ৭৬ হাজার ১৯৩ জন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন। প্রথম সারির সুপারভাইজার থাকবেন ১৫ হাজার ৬৮৮ জন এবং দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার থাকবেন দুই হাজার ৫০০ জন হাম-রুবেলা টিকা খুবই নিরাপদ। টিকা দেয়ার পর সামান্য জ্বর-ব্যথা হতে পারে যা এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। অন্য কোন সমস্যা হলে এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে কিংবা দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনার অংশ হিসাবে মাঠ পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল স্তরে সুপ্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বয়ে ব্যবস্থাপনা টিম গঠিন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল এবং সিটি কর্পোরেশন জোনসমূহের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি ঔষধ সরবরাহ করা হয়েছে।
কর্মসূচীকে সফল করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারি, সেবিকা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণশালা সম্পন্ন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী অবহিতকরণ সভা আয়োজন সম্পন্ন করেছে।



