ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা অর্থের বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে বাইরে করোনা আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢামেকে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরীক্ষা স্যাম্পল সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকা থেকে করোনা ভাইরাসে উপসর্গ নিয়ে নোমান আহমেদ ঢামেকে আসেন এবং ডাক্তারের পরার্মশ নেন। ডাক্তার তাকে বলেন- হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়া করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। এমন সময় হাসপাতালের একজন কর্মচারী পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তি বলেন- আমি আপনার করোনার পরীক্ষা করে দিবো। কিন্তু আপনাকে ৭ হাজার টাকা দিতে হবে! পরে আমি তাকে অনুরোধ করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা পরীক্ষাটি করি। পরে ওই কর্মচারীর কাছে জানতে পারি টাকা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। এমনিতেই করোনার পরীক্ষা করা হয়। এমনকি টাকা হলে করোনার রিপোর্টও চেঞ্জ করা যায় বলে সেই কর্মচারী জানান।
জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তারা অর্থের বিনিময়ে বাইরে থেকে করোনা রোগী এনে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, এমন অনিয়মের খবর পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঢামেকের ভাইরোলজি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তিকৃত করোনা রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। প্রতিদিনই আড়াইশ থেকে তিনশ রিপোর্ট ডেলিভারী দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নিয়মের বাইরে কিছু কিছু কর্মকর্তার অনুরোধ ভাইরোলজি বিভাগের রাখতে হয়। সেই অনুরোধেই বাইরের কিছু লোকের স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি ছাড়া অন্য কোনো করোনা রোগীর পরীক্ষা জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ করা যায় না। হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে শুধু ভর্তি হওয়া রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করার নিয়ম রয়েছে। এবং নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হয়।
এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে সরকারি কর্মচারী ও হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীদের স্যাম্পলও পরীক্ষা করা হয়।
সূত্রটি আরো জানায়, ঢামেকের ভাইরোলজি বিভাগে নিজস্ব টেকনোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র কয়েকজন। তাই বাইরে থেকে টেকনোলজিস্ট এনে কাজ করানো হচ্ছে। এই বিভাগের ডাক্তার, টেকনোলজিস্ট ও ক্লিনারসহ বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। লোকবল সঙ্কট থাকলেও নিয়ম ভেঙে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের অনুরোধ রাখতে হয়। ঢামেকের ভাইরোলজি বিভাগে একটি মেশিন দিনে তিনবার পরীক্ষা করা হয়। অনেক লোডের কারণে মেশিনকে বিশ্রাম দিতে হয়। তাই অনেক সময় স্যাম্পলগুলো জমে থাকে। হাসপাতালে করোনা ইউনিট শুরু থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজারের বেশি করোনা রোগীর স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তিনি বাইরের কোনো রোগীর জন্য তদবির করেননি। তিনি বলেন, ভাইরোলজি বিভাগে বলা আছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের পরীক্ষার পাশাপাশি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এই অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মনে হয় হাসপাতালের কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে বাইরে থেকে লোক এনে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অনিয়ম করছে। বিষয়টি জানার পর আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রতিদিন আমি নিজেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করছি।
তিনি আরো বলেন, করোনা পরীক্ষায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অগ্রধিকার আগে দেয়া হচ্ছে। এরপর সুযোগ পাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।



