জামালপুরে সরিষাবাড়ীতে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ নিহতের স্ত্রী মৌটুসী বেগম (২০) ও শাশুড়ি হাসি বেগমকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার পৌর এলাকায় আরামনগর বাজার জি এম সি কলোনির সুরুজ মিয়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে গত দুই বছর যাবৎ স্বামী রকিবুল তরফদার রাব্বী (৩০) স্ত্রী মৌটুসীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-হাতাহাতির এক পর্যায়ে রাব্বি মারাত্মক আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে জরুরিভাবে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ সময় নিহতের স্ত্রী মৌটুসী ও তার মা হাসি বেগম হাসপাতালে লাশ রেখে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মৌটুসী বেগম ও শাশুড়ি হাসি বেগমকে আটক করে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রকিবুল তরফদার গত দুই বছর আগে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্ত্রী মৌটুসীকে বিয়ে করে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করত। স্ত্রী মৌটুসী জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তিনি পরকিয়ায় আসক্ত বলে স্বামীর পরিবারের লোকজনদের ধারণা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে-মধ্যেই ঝগড়া হতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, সরিষাবাড়ী হাসপাতাল থেকে রকিবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিহতের চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্ত্রী মৌটুসী বেগম ও শাশুড়ি হাসি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের থানায় নেয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন :
স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে স্বামীর আত্মহত্যা
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা, ১৫ জুন ২০১৫
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। উপজেলার হেয়াকো এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিক জানান, শুকবার সকাল থেকে স্ত্রী ছালমার সাথে সমশেরের ঝগড়া হয়। মূলত সমশের আলীর তিন স্ত্রীর সংসার। প্রথম স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর আপন খালাতো বোন সালমাকে বিয়ে করে সমশের। পরে আরো একজনকে বিয়ে করলে তাদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা শুরু হয়। সেখান থেকে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়ে আসছিল।
রাজধানীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
রাজধানীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হয়েছেন। নিহতের নাম ওয়াহিদুল ইসলাম স্বপন (৬০)। গতকাল বুধবার দুপুরে মালিবাগ আবুজর গিফারী কলেজসংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম নাহারকে আটক করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মালিবাগ বাজার রোডের ১৬৩ নম্বর বাড়িতে পাঁচতলায় নিজস্ব ফাটে বসবাস করতেন ওয়াহিদুল ও মৌসুমী দম্পতি। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ওয়াহিদুলের সাথে তার স্ত্রী মৌসুমীর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মৌসুমী বাসায় থাকা শিলপাটা দিয়ে স্বপনের মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
প্রতিবেশী এক ব্যক্তি হাসপাতালে জানান, ওয়াহিদুল ও মৌসুমীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। কয়েক দিন ধরে কলহ আরো বেড়ে যায়। গতকাল সকালেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, ওয়াহিদুল ও মৌসুমী মাদকাসক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিল না।
শাহজাহানপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল মাবুদ জানান, নিহতের মাথায়, কপালে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যতটুকু জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ওই বৃদ্ধকে তার স্ত্রী হত্যা করেছেন। গ্রেফতার মৌসুমী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তার স্বামী কাজকর্ম করতেন না। বেশির ভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকতেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ সময় ঝগড়া হতো। গতকালও ঝগড়ার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
খাবার চাওয়ায় শাশুড়িকে মেরে গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখল পুত্রবধূ
রংপুর অফিস, ০৯ জুন ২০১৮
রংপুর মহানগরীর দক্ষিণ গনেশপুর এলাকায় শনিবার সকালে আম গাছে ঝোলানো অবস্থায় মালেকা বেগম (৪৭) নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খাবার চাওয়ায় পুত্রবধূ আখি বেগম ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে শাশুড়ি মালেকা বেগমকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে লাশ ঝুলিয়ে রাখে বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
নিহতের স্বামী রেজাউল হক জানান, শুক্রবার আমার স্ত্রী মলেকা বেগম পুত্র মাসুম মিয়ার বউ আখি বেগমের কাছে খাবার চায়। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে মধ্যরাতে আবারও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী মলেকা বেগমকে ব্যাপক মারধোর করে পুত্রবধু আখি বেগম। নির্যাতনের মুখে আমার স্ত্রী মারা গেলে তাকে আখি বেগম রশি দিয়ে আমগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ শনিবার সকালে এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের দেবর আনোয়ার হোসেন জানান, রাত ১টার দিকে ভাতিজা মাসুম মিয়া আমার বাড়িতে এসে বলে চাচা মা তো মারা গেছে। এসময় সে একটি লাঠি নিয়ে তার স্ত্রীকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে। আমরা গিয়ে দেখি লাশ আমগাছে ঝোলানো।
নিহতের পুত্র মাসুম মিয়া জানান, আমি আমার মায়ের জন্য কোনো কিছু আনা হলে আমার স্ত্রী সেটা কোনোভাবেই সহ্য করত না। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে খুব ঝগড়া হতো। আমি মাকে কিছু দিতে গেলেই সে গালিগালাজ করত, ঝগড়া করত।
লাশ উদ্ধারকারী কোতয়ালী থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহদের স্বামীর কথা একটি ইউডি মামলার সূত্র ধরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা না হত্যা তা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না।
তবে লাশের সূরুতহাল রিপোর্টকারী পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লাশের শরীরের বিভিন্নস্থানে ৬টি মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারনা নির্যাতন করে মেরে ফেলার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।






