নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী (১৬)। সোমবার ভোরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক শরিফুল ইসলাম নূর (২৬) ও তার বন্ধু হোটেল ম্যানেজার দীন মোহাম্মদকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আটক শরিফুল ইসলাম নূর চাটখিল উপজেলার নোয়াপাড় গ্রামের রমজান আলী মিজিবাড়ীর আলী আকবারের ছেলে। অপর আসামি হোটেলের ম্যানেজার দীন মোহাম্মদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলাম নূর ও ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে হোটেল ম্যানেজারের সহযোগিতায় সোনাইমুড়ী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় সোনাইমুড়ীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিষয়টি থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসাপাতালে পাঠায়। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় রাতে সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও একজন এসআই তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেন। বর্তমানে তিনি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম কিশোরী নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। কথিত প্রেমিক মো: শরিফুল ইসলাম নূর কিছু দিন থেকে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের জানালে পরিবারের লোকজন আসামিকে সতর্ক করে।

ভিকটিম গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে চাটখিলের একটি স্কুলে এসে এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাটখিল পৌরসভাধীন উপজেলা গেটের সামনে নিয়ে আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীফ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ভিকটিমকে জোর করে অপহরণ করে সোনাইমুড়ী থানার রওনক আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে। আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ২ নম্বর আসামি দ্বীন মোহাম্মদ জনির সহায়তায় হোটেলের পাঁচতলার ৫০৬ নম্বর কক্ষের ভেতরে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হলে হোটেল ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় শরীফ ভিকটিমকে দুপুর দেড়টার দিকে সোনাইমুড়ীর আল খিদমাহ জরুরি সেবা ও নরমাল ডেলিভারি হসপিটাল ভর্তি করে। ভিকটিমের আত্মীয় ঘটনার বিষয়ে জানতে পেয়ে আল খিদমাহ জরুরি সেবা ও নরমাল ডেলিভারি হসপিটাল এসে এ অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিম এখন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মো: আব্দুল আজিম জানান, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রাত থেকে তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার ভোরে সোনাইমুড়ী নদনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম নূরকে আটক করা হয়েছে। রাতেই ওই হোটেল থেকে ম্যানেজারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা একটি মামলা করেছেন।