নওগাঁর মান্দা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফার বাড়িতে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের এক এসআই মারপিটের শিকার হয়েছেন।
এ সময় এসআই আতিউর রহমানকে লাঞ্ছিত করাসহ ঘরে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে চেয়ারম্যান তোফার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মান্দা থানার উপপরিদর্শক আতিউর রহমানকে লাঞ্ছিতসহ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
সংবাদ পেয়ে মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই আতিউর রহমানকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধর্ষক রুবেল হোসেনের পক্ষ নিয়েছেন। ধর্ষণ মামলার আসামিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে মীমাংসার জন্য কোনো লিখিত অভিযোগ কিংবা কোর্টের আদেশ ছাড়াই আপোসের জন্য তার নিজ বাড়িতে বসেন।
এছাড়া একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় তাণ্ডব চালিয়ে সরকারি অফিসিয়াল কাজে বাধা দিয়ে এসআই আতিউর রহমানকে ঘরবন্দী করে রাখেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, সদর ইউনিয়নের ঘাটকের গ্রামের এক নারী একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মৎস্যজীবী পাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ দেন। বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করছিলেন ওই নারী।
শুক্রবার সকালে মিমাংসার জন্য দু’পক্ষকে তার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকেও ডেকে নেন।
চেয়ারম্যান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দু’পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা চলাকালে হঠাৎ করেই সাদা পোষাকে এসআই আতিউর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুবেল হোসেনকে ধরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় বাধা দিলে কয়েকজন নারীকে হেনস্তা করাসহ ওই কক্ষের বেশকিছু আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিউর রহমান জানান, ধর্ষণ মামলা মিমাংসা করার কোনো এখতিয়ার চেয়ারম্যানের নেই। সেটা একমাত্র আদালতের এখতিয়ার।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়িতে আসামি অবস্থান করছে জেনে সেখানে গিয়ে তিনি আসামি আটক করেন। কোনো ভাংচুর কিংবা কোনো মহিলাকে হেনস্তা বা লাঞ্ছিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ। বরং তিনি নিজেই হেনস্তা ও লাঞ্ছিত হয়েছেন।
মান্দা থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিম ওই মহিলা নিজে বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে আসামি চেয়ারম্যান তোফার বাড়িতে অবস্থান করছে। এজন্য সেখানে আসামি ধরতে যান এসআই আতিউর রহমানসহ পুলিশ সদসরা। সেখানে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন পুলিশকে আসামি আটক করে নিয়ে আসতে বাধা দেন। এক সময় লাঞ্ছিত ও ঘরে অবরুদ্ধ করে ফেলে। তিন ঘণ্টা পরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আসামি রুবেল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
বিকেলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে।






