সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণে সংঘবদ্ধ হয়ে দুর্ধর্ষভাবে ডাকাতি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনিতে ডাকাত দলের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউপির ঢাকা দক্ষিণের দত্তরাইল মিশ্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ডাকাত দলের ছোঁড়া গুলিতে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ডাকাতের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ডাকাত দলের হামলায় আহতারা হলেন- উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউপির পশ্চিম দত্তরাইল গ্রামের মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৩), একই এলাকার আতিব আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪০), মানোয়ার হোসেন (২২), কুব মিয়ার ছেলে আরমান আহমদ (২৮) ও মনন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল মিশ্রপাড়া গ্রামের জ্ঞান সেনের বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ির গৃহকর্তাসহ সকলকে অস্ত্রের পণবন্দি করে নগদ এক হাজার ডলার, দুই লাখ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ডাকাত দলের লুটপাটের বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। পরে ডাকাতদল গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের হামলায় পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়রা একপর্যায়ে ডাকাতদের আটক করতে প্রাণপন চেষ্টা করে। পরে এক ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা আটক ডাকাতকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। অপর ডাকাতরা পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশীদ চৌধুরী ডাকাত নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, দত্তরাইল মিশ্রপাড়া গ্রামের জ্ঞান সেনের বাড়িতে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুট করা কিছু মালামাল উদ্ধার হয়েছে। বাকি ডাকাতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।